বাংলাদেশ, রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

লোকসংগীত গবেষক ও সাংবাদিক নাসির হায়দার পেলেন ‘আলী রজা সম্মাননা’

প্রকাশ: ২০২০-০১-১৫ ২২:৩৮:৫৫ || আপডেট: ২০২০-০১-১৫ ২২:৪৬:২৪

বাংলাধারা প্রতিবেদন »  

লোকসংগীত গবেষক ও সাংবাদিক নাসির উদ্দিন হায়দার পেলেন ‘আঠার শতকের কবি আলী রজা ওরফে কানু শাহ’ সম্মাননা।

গত শনিবার (১১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে আনজুমানে মোত্তাবিয়ানে কানু বাবা (র) আয়োজিত ‘মধ্যযুগের কবি আলী রজা’ র্শীষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজবিজ্ঞানী ও প্রিমিয়ার ইউনিভাসির্টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. অনুপম সেন নাসির হায়দারের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির সহকারী পরিচালক ও খ্যাতিমান লোক গবেষক ড. সাইমন জাকারিয়াকেও একই সম্মাননা দেওয়া হয়।

মাইজভাণ্ডারী মরমী গোষ্ঠীর সভাপতি মো. সিরাজুল মোস্তফার সভাপতিত্বে সেমিনার ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক আজাদীর ফিচার সম্পাদক ও নাট্যজন প্রদীপ দেওয়ানজী, দৈনিক পূর্বকোণের সাহিত্য সম্পাদক ও কবি এজাজ ইউসুফী, বাংলা একাডেমির সহকারী পরিচালক ও গবেষক সাইমন জাকারিয়া, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল আইয়ের ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ, পুঁথি গবেষক মুহাম্মদ ইসহাক চৌধুরী, আওলাদে আলী রজা, পীরজাদা হাফেজ মৌলানা নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী।

ড. অনুপম সেন তার বক্তব্যে বাংলার সাধক কবিদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতার ব্যাখ্যায় সংস্কৃত, ফার্সি ও বাংলার সাহিত্যিক ঐক্যকে মিলিয়ে দেখান। তিনি বলেন, ‘একসময় বলা হতো মধ্যযুগের সাহিত্যে মুসলমানদের কোন অবদান নেই। কিন্তু মনীষী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মহাকবি আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ ও আলী রজা ওরফে কানু শাহর ‘জ্ঞানসাগর’ কাব্যগ্রন্থ আবিস্কার ও সম্পাদনা করে সে কথা মিথ্যা প্রমাণ করেন। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের পথ ধরে নুতন প্রজন্মের গবেষক নাসির উদ্দিন হায়দার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা, আঞ্চলিক, মাইজভাণ্ডারী ও মরমী গানের স্বরূপ সন্ধান এবং চট্টগ্রামের লোককবি ও সংগীতজ্ঞদের অমূল্য সৃষ্টির বিকাশে দারুণ কাজ করছে।’

নাট্যব্যক্তিত্ব প্রদীপ দেওয়ানজী কবি আলী রজার অসাম্প্রদায়িক সাহিত্যের সাম্প্রতিক প্রযোজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘নাসির উদ্দিন হায়দার শুধু গবেষণা করেই তার দায়িত্ব শেষ করেননি, তিনি সভা-সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের লোকসংস্কৃতির প্রধান রূপকারদের সৃষ্টিকে সুধী-সমাজে তুলে ধরার কাজটিও করছেন।’ এজাজ ইউসুফী বলেন, ‘ঐতিহ্যের সংরক্ষণ ও প্রচারে নাসির হায়দারের মতো নতুন প্রজন্মের গবেষকদের ভূমিকা আশা জাগানিয়া।

প্রসঙ্গত, নাসির হায়দার দৈনিক সমকালে সিনিয়র সাব এডিটর হিসাবে কর্মরত আছেন। চাটগাঁইয়া গানের কিংবদন্তী আবদুল গফুর হালীর জীবন ও কর্ম নিয়ে নাসির হায়দারের সম্পাদনায় ‘আবদুল গফুর হালীর গীতিকাব্য সুরের বন্ধন’ ও ‘আবদুল গফুর হালীর চাটগাঁইয়া নাটকসমগ্র’ নামে দুটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :

close