বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০

যেসব কারণে মনোনয়ন পেলেন না আ জ ম নাছির

প্রকাশ: ২০২০-০২-১৬ ০১:১৭:০১ || আপডেট: ২০২০-০২-১৬ ০১:১৭:০৮

ইফতেখার হোসেন » 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন থেকে বাদ পড়লেন বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। তার পরিবর্তে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম চৌধুরীকে।

চট্টগ্রামবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ, বন্যা নিয়ন্ত্রণে সফল না হওয়া ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে না পারাসহ বিভিন্ন কারণে আ জ ম নাছিরকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

তবে বিশেষ করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ঘটনায় মৃত্যদণ্ডে দণ্ডিত আসামি লে. কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদের পরিবারের সাথে আ জ ম নাছির উদ্দীনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্টতা। ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী শাহরিয়ার রশিদের ভাই মামুনুর রশিদ খান হেলাল ও চাচাতো ভাই আকরাম খানের সাথে মেয়র নাছিরের বিভিন্নসময়ে করা বৈঠক ও অনুষ্ঠানের বেশকিছু ছবি এবং তথ্যপ্রমাণ এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতেও এসে পৌঁছেছে।

মেয়াদের পুরো ৫ বছরেই ‘অতিরিক্ত সচিব’ পদমর্যাদায় মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন চট্টগ্রামের সিটি মেয়র নাছির উদ্দিন। চট্টগ্রামের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ সিটির মেয়রদেরকেও প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হলেও আ জ ম নাছিরের মুকুট ছিল শূন্য।

ঢাকার পরেই গুরুত্ব বিবেচনায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অবস্থান হলেও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে ধারাবাহিকভাবে পদমর্যাদার বাইরে রেখে দেওয়ার বিষয়টিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে।

রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি তার ওপর নেই। এ কারণে গত অন্তত পাঁচ বছরে চট্টগ্রামভিত্তিক উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর প্রায় সবই সিটি কর্পোরেশনকে না দিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টিকে বড় করে দেখছেন তারা।

মেয়র ও দলের শীর্ষ পদে থেকেও অন্তত অর্ধশতাধিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে এবং চট্টগ্রাম বন্দরসহ ব্যক্তিগত কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জড়িত থাকায় সিটি করপোরেশনের কাজে স্থবিরতা নেমে এসেছে বলে মনে করেন অনেকেই।

এই দীর্ঘ সময়ে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির সভাপতি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সহ-সভাপতিসহ অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের দায়িত্বেও ছিলেন মেয়র নাছির। এক সাথে এতসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সিটি কর্পোরেশন মেয়রের মূল দায়িত্বে বলার মত সফলতা দেখাতে পারেননি তিনি।

গত ৫ বছরে সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ এবং দুদকের নজরদারি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগও আলোচনায় আছে বেশ শক্তভাবে। নগর আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব ও স্নায়ু দ্বন্দ্ব এবং সিনিয়র নেতাদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।

দীর্ঘদিন নগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেওয়া এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে আ জ ম নাছিরের বিরোধ বেশ আলোচিত ছিল চট্টগ্রামের রাজনীতিতে। মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর তার অনুসারীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এ সময় মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীদের সাথে স্নায়ু-দ্বন্দ্ব তৈরি হয় মেয়র নাছিরের। সর্বশেষ একটি অনুষ্ঠানে মহিউদ্দিন-পত্নী হাসিনা মহিউদ্দিনকে মঞ্চ থেকে অশোভনভাবে নামিয়ে দেওয়ার বিতর্ক সেই স্নায়ুযুদ্ধকে অনেকটা প্রকাশ্য রূপ দিয়েছে।

প্রায় সাড়ে তিন বছর টানা ভোগান্তির পর গত বছরের জুলাই থেকে এই সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করে চসিক। তবে সেই সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হয়নি এখনো। এসব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজেই।

২০১৭ সালের ১২ মার্চ চট্টগ্রাম সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শুধু চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সড়কের অবস্থা দেখে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ নগরীর এ দুরবস্থা আমি দেখতে চাই না। কার গাফিলতিতে এ দুরবস্থা তা জানতে চাই। আপনারা ডিপিপি প্রণয়ন করুন। একনেকে পাঠান, একনেকে তো আমি সভাপতিত্ব করি, আমি অনুমোদন দেব। কিন্তু কাজ হবে না তা সহ্য করব না।’ এই বিষয়টিও শেষ পর্যন্ত মেয়র নাছিরের কাল হয়ে দাঁড়ালো।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :

close