বাংলাদেশ, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০

চসিক নির্বাচন : বাদ পড়তে পারেন যে সব কাউন্সিলর

প্রকাশ: ২০২০-০২-১৭ ১৬:৩৩:১৪ || আপডেট: ২০২০-০২-১৭ ১৭:৩০:৫৯

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিমকে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার পর এবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড গুলোর কাউন্সিলর পদে কে কে দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন তা নিয়ে নগরজুড়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। ইতােমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌছে গেছে গোয়েন্দা প্রতিবেদন। প্রতিটি প্রতিবেদন একাধিক সূত্রে যাচাই-বাছাই ও চুলচেড়া বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে৷

গতকাল মনোনয়ন সংস্লিষ্ট এলাধিক সূত্র থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ ওয়ার্ড- ১ নং দক্ষিণ পাহাড়তলি, ৯ নং উত্তর পাহাড়তলী, ১২ নং সরাইপাড়া, ১৩ নং পাহাড়তলী, ১৪ নং লালখানবাজার, ১৫ নং বাগমনিরাম, ২০ নং দেওয়ানবাজার, ২৫ নং রামপুর, ২৮ নং পাঠানটুলি, ৩০ নং পূর্ব মাদারবাড়ী, ৩১ নং আলকরণ, ৩৩ নং ফিরিঙ্গী বাজার, ৩৮ নং দক্ষিণ মধ্যম হালিশহরের বর্তমান কাউন্সিলরদের পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনার তথ্য মিলেছে৷ যাদের মধ্যে একজন প্যানেল মেয়রের নাম রয়েছে। ইতিমধ্যে বর্তমান কাউন্সিলর সহ মনোনয়ন প্রত্যাশী ৪০৬ জনের কাছ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার ফরমে সাক্ষর নিয়ে রাখা হয়েছে৷ সেই সাথে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের কথাও জানিয়ে দেয়া হবে৷

আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার কথা রয়েছে। যারা চসিক নির্বাচনের কাউন্সিলর পদের মনোয়ন পত্র পুরণ করে জমা দিয়েছেন তাদের অনেকেই এখন ঢাকায়। বিভিন্ন নেতাদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিলেও মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে কেউ নিশ্চিত হতে পারছেন না।

২৫ নং রামপুর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও রামপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সবুর লিটন বাংলাধারাকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উন্নয়ন অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে রামপুর ওয়ার্ডকে মডেল ওয়ার্ডে রুপান্তর করা আমার স্বপ্ন। আমার এলাকায় খারাপ কাজের বিরুদ্ধে আমি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবো। দলের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে বেকারদের জন্য কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার পরিকল্পনা রয়েছে। সন্ত্রাস দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করার লক্ষ্যে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া। রাজনৈতিক এবং এলাকার সমাজসেবামূলক কাজের মূল্যায়ন করা হলে আমি মনোনয়ন পাবো। কারণ এলাকায় বর্তমান কাজের মূল্যায়ন আর আমি কাউন্সিলর থাকাকালীন মূল্যায়ন এলাকাবাসী করবে।

১৪নং লালখান বাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের মনোনয়ন প্রত্যাশী তরুণ নেতা আবুল হাসনাত বেলাল বাংলাধারাকে বলেন, আমরা সবাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের উপর তাকিয়ে আছি। আমি এখন ঢাকায়। আমার মতো চসিক নির্বাচনে অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশী ঢাকাই রয়েছেন। মনোনয়নের জন্য সবাই নেত্রীর দিকে তাকিয়ে আছেন। সবকিছু নির্ভর করবে নেত্রীর উপর। তিনি যাকে ভাল মনে করবেন তাকেই মনোনয়ন দেবেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল জানান, কাউন্সিলর মনোনয়নের ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগ থেকে কোন তালিকা দেয়া হয়নি। তবে স্থানীয় সাংসদদের মতামত চাওয়া হতে পারে।

এদিকে চসিক কাউন্সিল প্রার্থীদের ঘুম হারাম। আ জ ম নাছির সমর্থিত কাউন্সিল প্রার্থীদের মধ্যে নেমে এসেছে হতাশা। হাইকমান্ডের নজরে আসতে তাঁদের অনেকই এখন নাছিরকে বাদ দিয়ে তদবিরের পথ খুঁজতে ভিন্ন পথে হাঁটছেন।

এর আগে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের হিড়িক পড়ে।

কোনোকালে আলোচনায় ছিলেন না বা কেউ কোনোদিন নামও শোনেননি এমন অজ্ঞাত-অখ্যাতরাও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন। সকাল-বিকাল দল বদল করেন এমন ব্যক্তিও নিয়েছেন দলীয় মনোনয়ন ফরম।

চসিক নির্বাচনে সাধারণ কাউন্সিলর পদে নগরের ৪১টি সাধারণ ও ১৪টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে এবার আওয়ামী লীগের সমর্থন প্রত্যাশী ৪০৯ জন। নগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে সাধারণ ওয়ার্ডগুলোতে সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলর এবং দল-সংগঠনের রাজনীতিতে জড়িত শতাধিক রয়েছেন বিভিন্ন কারণে ‘বিতর্কিত’।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ক্লিন ইমেজের মানুষকেই বাছাই করা হবে। যাদের বিরুদ্ধে মাদক ও দূর্নীতির অভিযোগ আছে তাদের মনোনয়ন দেয়া হবে না-এটা নিশ্চিত। মূলতঃ দলীয় রাজনীতির জন্য ত্যাগী, সৎ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজনকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে নেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন তিনিই দলীয় মনোনয়ন পাবেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :

close