বাংলাদেশ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২০

নির্বাচিত হলে পরিকল্পিত নগরায়ন ও দুর্নীতিমুক্ত করপোরেশন গড়ে তুলবেন রেজাউল

প্রকাশ: ২০২০-০৩-০১ ১৯:৫০:১২ || আপডেট: ২০২০-০৩-০১ ২০:২২:০১

মেয়র নির্বাচিত হলে প্রথম দিন থেকেই নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধার জন্য কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। নিজের পরিচয়ের বাইরে তার বড় পরিচয় তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পরিশ্রমী সৈনিক এবং চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর শিষ্য। নির্বাচন নিয়ে তিনি বাংলাধারা’র সাথে স্বপ্নের চট্টগ্রাম নিয়ে বলেছেন অনেক খোলামেলা কথা। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বাংলাধারা’র প্রধান প্রতিবেদক তারেক মাহমুদ

হঠাৎ করে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যপারে এম রেজাউল করিম বলেন, চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। সেইসাথে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি। আরও ধন্যবাদ জানাই আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ড সভার সদস্যদের যারা আমাকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনীত করেছেন। আমি আশা করবো নগরবাসী যাতে আমার ওপরে আস্থা ও বিশ্বাস রাখেন।

হঠাৎ মেয়র হওয়ার জন্য আগ্রহ কেন জাগল- এমন প্রশ্নের জবাবে রেজাউল করিম বলেন, চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে থেকে রাজনীতি করতে গিয়ে আমি উপলব্ধি করেছি যে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে উন্নত বাংলাদেশের জন্য নিরলস কাজ করে চলছেন; আমাদের রূপকল্প দিয়েছেন ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত বাংলাদেশ নির্মাণের। উন্নত বাংলাদেশের জন্য উন্নত বানিজ্যিক রাজধানী প্রয়োজন। সেই উন্নত বানিজ্যিক রাজধানী গড়ার লক্ষ্যে আমি মনে করেছি যে, এই সুযোগটা গ্রহণ করব। জনগণের কাছে যাব। জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত করে তাহলে বৃহত্তর পরিসরে বন্দরনগরীর ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে তাকে নিজ স্বকীয়তায়, স্বীয় মহিমায় প্রস্ফূটিত করব। চট্টগ্রাম নগরবাসীর জন্য একটি উন্নত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দেয়ার জন্য আমি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, আমার দল যেভাবে ভালোবেসে আস্থা রেখেছেন, চট্টগ্রাম সিটির সব জনগণ সেভাবে আস্থা রাখবে বলে আমি মনে করি। তারা আমাকে কাজের সুযোগ দেবেন। আমার ইচ্ছা রয়েছে ৩০ বছর মেয়াদি দীর্ঘ পরিকল্পনা গ্রহণ করার। ২০৪১ সালকে সামনে রেখে উন্নত বানিজ্যিক রাজধানী উপহার দেয়ার।

বাংলাধারাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এখন চিন্তা করলে মনে হবে এটা খুব কঠিন কাজ, অবশ্যই এটা কঠিন কাজ। তবে এই নজির আমাদের এই সিটির প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সাহেব দেখিয়েছেন, যে অল্প সময়ের মধ্যে চাইলে পরিবর্তন আনা যায়। আমি মনে করি, সবার সমর্থন পেলে আমিও সেটা করতে সক্ষম হব। আমি বিশ্বাস করি যে, আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করলে সবই সম্ভব।

বাংলাধারা : মেয়র পদে বিজয়ী হলে এই নগরকে আপনি কিভাবে সাজাতে চান?

রেজাউল করিম: গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ‘সৌন্দর্যের রাণী খ্যাত’ চট্টগ্রামকে পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে দিতে চাই। আমাদের চট্টগ্রামে কি ছিল না? সমন্বিত পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে তা আজ অতীত ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। আমি যদি মেয়র নির্বাচিত হই, তাহলে প্রথমে নগরীতে কাজ করা সবকটি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বয় করবো।

বাংলাধারা : চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১২ মাসই চলে রাস্তা সংস্কার। অযাচিত খোঁড়াখুঁড়ির ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন?

রেজাউল করিম : আমি মেয়র নির্বাচিত হলে ব্যক্তিগত কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে কারো উপর চাপিয়ে দেব না। আমি সমন্বিত কাজে বিশ্বাসী। সকল সংস্থার সাথে সমন্বয় করে নগরবাসীর যেন উপকার হয় সে ব্যবস্থা নিব।

বাংলাধারা : বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। নিরসনে কি ব্যবস্থা নেবেন?

রেজাউল করিম : চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। এই অভিশাপ থেকে বাঁচতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সেগুলো শেষ হলে অনেকাংশে জলাবদ্ধতা কমবে বলে মনে করছি। তবে জনগণের সচেতনতা ছাড়া হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে অর্জিত সফলতা ধরে রাখা সম্ভব না। তাই জনগণের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশন অনেক ভূমিকা রাখতে পারে। আমি সে জায়গায় প্রথমে কাজ করবো। আগে জনগণকে ‘ফিল’ করাতে হবে খাল-নালায় বর্জ্য ফেলা অপরাধ।

পুরনো ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, খেলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ ছিল, পরিবেশ সুরক্ষায় পাহাড়ের সারি ছিল। আজ প্রতিষ্ঠানের ঘেঁষাঘেষিতে সবই বিলীন হতে চলেছে। চট্টগ্রামের ‘লাইফলাইন’ খ্যাত কর্ণফুলী দূষণের শেষ পর্যায়ে, যার মোহনার দেশের অর্থনীতির সূতিকাগার বন্দর অবস্থিত। অথচ আমরা কর্ণফুলী নিয়ে পুরনো কর্মকাণ্ডেই দায় সারছি। কাজ যেই করুক, চট্টগ্রামের পরিকল্পিত উন্নয়নে আমার সহযোগিতা থাকবে। সিটি করপোরেশন মূল কাজগুলো মধ্যে রয়েছে পরিচ্ছন্নতা, আলোকায়ন ও সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ-উন্নয়ন। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে পরিচ্ছন্নতাকে সবার আগে গুরুত্ব দেয়া হবে। এছাড়াও সড়কের পাশে পথচারীদের জন্য ফুটপাত খালিকরণ ও নাগরিক সেবা নিশ্চিতে অটল থাকবো।

বাংলাধারা : তরুণদের ব্যাপারে আপনার চিন্তা-ভাবনা কি?

রেজাউল করিম : চট্টগ্রামে বিনোদনের কোন স্থান নেই, খেলার মাঠ নেই। খেলার মাঠ যদি থাকতো ছেলেরা আড্ডা মারতে পারতো না। আড্ডা থেকে কুচিন্তা আসে, কুচিন্তা থেকে মাদকাসক্ত হচ্ছে আমাদের তরুণ সমাজ। চট্টগ্রামে ভালো কোন পার্কের ব্যবস্থা নেই, বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। তরুণদের জন্য বিষয়গুলো নিয়ে আমার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে।

বাংলাধারা : হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো বা কমানোর ব্যাপারে কি চিন্তা রয়েছে?

রেজাউল করিম : হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে চট্টগ্রামের মানুষের একটা ভীতি আছে। এ ক্ষেত্রে আমি প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধূরীকে অনুসরণ করব। তাঁর আমলে হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে কোন আন্দোলন হয় নি। আমিও চেষ্টা করব এটা নিয়ে যাতে কোন বাড়াবাড়ি না হয়।

বাংলাধারা :  পাহাড় রক্ষায় আপনি কতটুকু সোচ্চার হবেন?

রেজাউল করিম : পাহাড় রক্ষার ব্যাপারে আমি সব সময় সোচ্চার। আমি এ নিয়ে অনেক আন্দোলনও করেছি। চট্টগ্রাম হলো পাহাড়ী জায়গা। পাহাড় ধ্বংস করতে দেয়া যাবে না। আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি পাহাড় কাটা বন্ধে আমি যে কোন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত।

বাংলাধারা : সিটি করপোরেশনকে সাবলম্বী করার ব্যাপারে আপনার কি চিন্তা রয়েছে?

রেজাউল করিম: আমি যদি নির্বাচিত হই, যদি কোন আইনগত বাঁধা না থাকে তাহলে আমি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে সাবলম্বী করার ব্যাপারে চিন্তা করব।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

ট্যাগ :

close
bangladhara ads