বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

একজন বিদ্যুৎ বড়ুয়া ও চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল

প্রকাশ: ২০২০-০৪-২৮ ২০:০৯:০৪ || আপডেট: ২০২০-০৪-২৮ ২২:২৫:২৮

ইয়াসির রাফা »

“ ছোট ছোট বালুকণা, বিন্দু বিন্দু জল,
গড়ে তোলে মহাদেশ, সাগর অতল। ”

আমরা এক সময় উন্নত বিশ্বে বিশেষ অবস্থায় রোগীদের চিকিৎসায় রাতারাতি ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি হতে দেখে অবাক হয়েছি। কিন্তু আমাদের দেশেও এটিকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন একজন মানুষ। তার নাম ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া।

কিন্তু উন্নত বিশ্বে অর্থের সংকট নিয়ে ভাবতে হয় না। আমাদের ভাবনার প্রয়োজন পড়ে। ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া তো কোন ধনকুবের নন। বড় ব্যবসায়ীও নন। তাহলে কোথায় পাবেন এত অর্থ? কিভাবে নির্মাণ হবে ফিল্ড হাসপাতাল ! কিন্ত মানুষকে তো বাঁচাতে হবে !

মাদার তেরেসা বলেছেন, “আমরা সকলেই শুরুতেই বিশাল কোনো মহৎ কাজ করতে পারবো না। কিন্তু ভালবাসা দিয়ে ছোট ছোট অনেক ভাল কাজ, বড় কাজে রুপান্তর করা সম্ভব।“ এই কথাটিকেই যেন মূলমন্ত্র নিয়ে মাঠে নামলেন তিনি। তিনি বললেন, ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি হবে প্রতিটি মানুষের অর্থায়নে ! প্রতিটি মানুষ একশ টাকা করে দিলে হাসপাতাল হয়ে যাবে। তহবিল তৈরির কাজ শুরু হলো, মানুষ ভালবেসে সাড়া দিতে শুরু করলেন এই মহান কর্মের অংশীদার হতে। একই সাথে চলতে থাকলো কাজ। চীনের উহানে মাত্র ১০ দিনে তৈরি হয়েছিল করোনা চিকিৎসার হাসপাতাল। ওই সময়ে না হলেও বাংলাদেশে এই প্রথম মাত্র ২০ দিনেই তৈরি হয়েছে করোনা চিকিৎসায় চট্টগ্রাম ফ্লিড হাসপাতাল (সিএফএইচ)।

চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের সলিমপুরে নাভানা গ্রুপের আফতাব আটোমোবাইল সহায়তা করলো স্থান দিয়ে। সামর্থবানরা কেউ কেউ আরো বেশি অর্থ সাহায্য নিয়ে উপস্থিত হলেন। তারপর প্রতিষ্ঠানটির আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেড কারখানার ভেতরে ৬ হাজার ৮০০ বর্গফুটের দ্বিতল ভবনে ৫০-৬০ শয্যার অস্থায়ী হাসপাতালটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পরিদর্শন করে হাসপাতাল নির্মাণে অনুমতি দানসহ প্রশংসা করেন।

করোনাভাইরাসের মহামারীতে আতঙ্কিত সারাবিশ্ব, পাওয়া যাচ্ছে না কোনো প্রতিষেধক। চট্টগ্রাম নগরীর বড় বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলো যখন সরীসৃপ প্রাণী কচ্ছপের মত হাত পা গুটিয়ে নেয়। ঠিক এই সময়েই করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে অল্প হলেও আশার আলো দেখিয়ে ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবায় একটি আশ্রয় কেন্দ্র তৈরিতে সফল হন।

জানা যায়, তিনি ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে বসবাস করতেন। করোনা সংকটে তিনি ছুটে এসেছেন দেশে। মাতৃভূমি এবং তার মানুষের সেবায় তিনি জীবনকে পরোপকারে নিয়োজিত করা জরুরি মনে করলেন। আসলে ‘যে মন কর্তব্যরত নয় সে মন অনুপভোগ্য’। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে দেখা যায় এই হাসপাতালের কর্মকান্ড। দেখা যায় কিভাবে ছোট ছোট বালুকণা, বিন্দু বিন্দু জল, মিলে একটি বড় মহাদেশ, সাগর অতল গড়ে তোলা হল। ভাল লাগে। আমাদের সমাজের জন্য তো এমন মানুষই দরকার। তিনি তো কুসুমকুমারী দাশে’র কবিতার সেই ‘আদর্শ ছেলে’। যে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হতে চায় ! মুখে হাসি, বুকে বল তেজে ভরা মন নিয়ে “মানুষ” হবার পণ করে, মানুষের জন্য কাজ করার মন নিয়ে এগিয়ে যায়।

বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বড়ুয়ার মতো মানুষ খুব প্রয়োজন। জাতীয় দুর্যোগে তার মতো মানুষই দিশা হয়ে দাঁড়াবেন।

একটি মানুষ যখন সবাইকে ভালবাসতে শিখবে, সবার কল্যাণে কাজ করে যাবে- জীবনের ক্রান্তিলগ্নে গিয়ে দেখবে মানুষের ভালবাসায় তিনি আকণ্ঠ ডুবে থাকেন। বিদ্যুৎ বড়ুয়া সে ভালবাসা পাবারই যোগ্য এক মানুষ।

বিদ্যুৎ বড়ুয়া যে কাজ শুরু করেছেন তা করবার জন্য শক্তি যেন সব সময় অক্ষত থাকে।

এক নজরে ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া

বর্তমানে পাবলিক হেলথ ফ্যাকাল্টি হিসাবে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে কাজ করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে দুই সন্তানের জনক। বাবা অ্যাডভোকেট সুনীল কান্তি বড়ুয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আইনজীবী। মা- গৃহিনী। একমাত্র ভাই ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া- বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/ইরা

ট্যাগ :

close