বাংলাদেশ, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০

‘আব্বু স্বাধীন দেশ দিয়েছে, দেশ তাকে ‘আইসিইউ’ দিতে পারেনি’

প্রকাশ: ২০২০-০৬-১৫ ১৫:২২:৩৭ || আপডেট: ২০২০-০৬-১৫ ১৫:২২:৩৯

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

‘আপনাদেরকে তো আব্বু একটা স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছে, সেই দেশের হয়ে একটা আইসিইউ তাকে দিতে পারলেন না’ এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে চট্টগ্রামে মারা যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানের কন্যা মারিয়া তাহা।

কোথাও পাওয়া যায়নি একটি আইসিইউ! মুক্তিযোদ্ধার এই কন্যা মুমূর্ষু বাবার জন্য একটি আইসিইউ বেড চেয়ে আকুতি জানিয়ে এভাবেই স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে।

নগরীর এমন কোনো বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক নেই, যেখানে পরিবারের সদস্যরা একটি আইসিইউ বেডের জন্য আকুতি-মিনতি জানাননি।

গত ১২ জুন সারা দিনের সমস্ত চেষ্টা করেও স্বজনদের চোখের সামনেই এই মুক্তিযোদ্ধা মানুষটির মৃত্যুদৃশ দেখতে হয়েছে স্বজনদের। মুক্তিযোদ্ধার কন্যারও জানা হয়ে গেলো- তার বাবাকে আর ফেরানো যাবে না। এমনকি অভিমান করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আইসিইউ আর লাগবে না।’

এর আগে গত ১০ জুন মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানের হালকা জ্বর ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পরদিন হঠাৎ করে বেড়ে যায় শ্বাসকষ্ট। যোগাযোগ করে হলে নগরের সিএসসিআর হাসপাতাল থেকে আশ্বাস পেয়ে সেখানে তাকে নিয়ে যান স্বজনরা। কিন্তু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর শ্বাসকষ্ট দেখামাত্রই মুখ ফিরিয়ে নেয় সিএসসিআর। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিলেও সেগুলোকে পাত্তাই দেয়নি হাসপাতালটি।

পরে ১২ জুন সকাল থেকেই তীব্র হতে থাকে তার শ্বাসকষ্ট। বিকেল তিনটার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভর্তির পর শ্বাসকষ্ট আরও বাড়তে থাকলে তাকে আইসিইউ বেডে নেওয়ার জন্য স্বজনরা শত আকুতি জানালেও কোন লাভ হয়নি। বরং তাকে অনেকটা বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখা হয়। মুমূর্ষু মিজানুর রহমানকে অক্সিজেন দিয়ে সাধারণ একটি বেডে রাখা হলেও কোনো চিকিৎকের দেখা মেলেনি।

পরে ওই পরিবারের সদস্যরা বের হয়ে একটি আইসিইউ বেডের খোঁজে ছুটলেন বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে। কেউ গেলেন পার্কভিউ হাসপাতালে, আর কেউ মা ও শিশু হাসপাতাল। অন্যদিকে কেউ গেলেন ম্যাক্স হাসপাতালে। কেউ বা আবার সার্জিস্কোপ হাসপাতাল ও শেভরণে গিয়েও আকুতি জানালেন। কিন্তু না, শ্বাসকষ্টের কথা শুনে কেউ রাজি হল না। শেষমেশ নগরীতে ক্লিনিক সিন্ডিকেটের গড়া করোনার কথিত হাসপাতাল হলি ক্রিসেন্টেও গেলেন স্বজনরা। না, সেখানেও নিলো না। মুমূর্ষু মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান দীর্ঘ ৯ ঘন্টা জীবনটা বাঁচানোর লড়াই করে শুক্রবার রাত ১১টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

মুক্তিযোদ্ধা বাবার মৃত্যুর দিন মারিয়া তাহা ফেসবুকে লিখেছেন- ‘আপনাদেরকে তো আব্বু একটা স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছে, সেই দেশের হয়ে একটা আইসিইউ তাকে দিতে পারলেন না।’

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

ট্যাগ :

close