বাংলাদেশ, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

সাত দিনেই সুজনের বাজিমাত; পরিকল্পিত উন্নয়নের পথে চট্টগ্রাম!

প্রকাশ: ২০২০-০৮-১৩ ১২:৩৩:১২ || আপডেট: ২০২০-০৮-১৩ ১২:৩৩:১৩

মুহাম্মদ আব্দুল আলী »

‘আমি কিন্তু উদার না, যারা দুর্নীতি করছে তারা তওবা করে ফেলুন আজ থেকে। যারা দায়িত্বের সাথে বেঈমানি করবেন তাদের ছাড় দেবো না, ক্ষমা করবো না। না পারলে দায়িত্ব ছেড়ে দেবো, তবুও অন্যায়ের সাথে আপোষ করবো না।’

এই ডায়লগগুলো ‘এম এল এ ফাটা কেষ্ট’র মিঠুন চক্রবর্তীর নয়। ডায়লগগুলো সদ্য দায়িত্ব পাওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরশেনের (চসিক) প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের। দায়িত্ব গ্রহণ করতে না করতেই তিনি এমন হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। শুধু বক্তব্য দিয়েই শেষ করেননি বরং সাথে সাথে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা খানাখন্দে ও গর্তে পরিণত হওয়া নগরীর পোর্ট কানেক্টিং রোডে চলে যান। শুরু থেকেই তিনি ফাটা কেষ্ট’র পথে হাঠতে শুরু করেন তিনি।

জনপ্রিয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর একটা পরিচয় হল ‘ফাটা কেষ্ট’। মুভিতে দেখেছিলাম কিভাবে ফাটা কেষ্ট সাত দিনের মধ্যে মন্ত্রী হয়ে দেশ বদলে দিয়েছিল। একমাত্র ফাটা কেষ্টই পরে যেকোন ভঙ্গুর সভ্য সমাজ ব্যবস্থাকে পুনরায় গড়ে তুলতে। ঘটনাটা কেবল মুভিতে ছিল, বাস্তবেও তার প্রকাশ দেখতে পাচ্ছি চসিকের দায়িত্ব নেয় প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের সময়ে। চট্টগ্রাম নগরীকে আধুনিক ও সমস্যা দূরীকরণে নানা নিয়েছেন তিনি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজ ‘ফাটা কেষ্ট’ রুপে আবির্ভূত হয়েছেন চট্টগ্রামে, হাটছেন সেই ফাটা কেষ্টের পথে। যেখানেই অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা সেখানেই চলছে অভিযান। রাত নেই, দিন নেই অক্লান্ত অভিযান চালাচ্ছেন তিনি। কখনো ভাঙা রাস্তার মেরামত কাজের তদারকি, কখনো স্থাপনা ভেঙে অবৈধ দখল উচ্ছেদ এমনকি আল্টিমেটাম দিয়ে যাচ্ছে। অ্যাকশনের পর অ্যাকশন নিয়ে যাচ্ছে অনিয়ম, অন্যায় ও যত অবৈধ বিষয়ের বিরুদ্ধে।

ক্লান্তিহীন দিন পার করার পর রাতেও নামছেন ‘অ্যাকশনে’। যখন যেখানে অনিয়ম দেখছেন, সেখানেই হাজির হচ্ছেন চসিক প্রশাসক সুজন। নিজেই সরেজমিনে পদাচরণ করছেন, বিচরণ করে বেড়াচ্ছেন সর্বত্র। চসিক প্রশাসকের এমন উদ্যমী উদ্যোগ সব মহলে প্রশংসার পাশাপাশি তাকে চট্টগ্রামের ‘ফাটা কেষ্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন নগরবাসীসহ নানা মহল।

গত ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করার প্রথম দিন কর্মকর্তাদের সাথে পরিচিত পর্বেইঅনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি কিন্তু উদার না, যারা দুর্নীতি করছে তারা তওবা করে ফেলুন আজ থেকে। যারা দায়িত্বের সাথে বেঈমানি করবেন তাদের ছাড় দেবো না, ক্ষমা করবো না। না পারলে দায়িত্ব ছেড়ে দেবো, তবুও অন্যায়ের সাথে আপোষ করবো না।’

সেদিন অপরাধ করাটা অপরাধ না, তা স্বীকার না করা অপরাধ মন্তব্য করে সুজন বলেছিলেন, এখানে যারা আছেন সবাই জ্ঞানী-গুণী মানুষ, আপনাদের জ্ঞান-প্রজ্ঞাকে কাজে লাগান। আজ সকালে আসার সময় নিউ মার্কেট জিপিওয়ের সামনে ময়লা দেখেছি সকাল নয়টার সময়। কেন এত সকালে ময়লা থাকবে। পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তাদের আহ্বান জানাবো, ভবিষ্যতে এ ময়লা আর দেখতে চাই না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নাছির ভাই অনেক কাজ করছে, সেটা সাকসেসফুল করতে হবে।

‘যেদিন বৃষ্টি হবে সেদিন আমিও থাকবো, কোথায় পানি জমছে তা সরেজমিনে দেখবো। ঘরে বসে কাজ করার দিন শেষ। আমরা মহিউদ্দিন চৌধুরীর কর্মী, কিভাবে কাজ করতে হয় তা আমরা জানি।’

চসিককে দলীয় কার্যালয় বা পারিবারিক করা হবে না জানিয়ে সুজন বলেন, বাড়ি থেকে বের হবার সময় আমার সাথে চসিকের গেইট পর্যন্ত আমার ছেলে এসেছে, তাকে ভিতরে ডুকতে দিই নাই। এখানে তার কোন কাজ নেই। প্রত্যেক দিন, মুহুর্তে কাজ করবো চ্যালেঞ্জ নিয়ে। জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তার জন্য খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করার জন্য বিএসটিআইকে সাথে নিয়ে কাজ করবো। এক সপ্তাহ দশদিন গেলে বুঝবেন আমি কি করতে পারবো কি পারবো না সেটা।

‘সবচেয়ে আশার কথা যিনি আমাকে দায়িত্ব দিয়ে এখানে পাঠিয়েছেন তিনিই এ শহরের দায়িত্ব নিয়েছেন। কাজেই উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করার কোন কারণ নাই। আমাকে পুকুরে নামতে দেন, নামার পরে দেখবেন কিভাবে সাঁতরাবো সেটা।’, যোগ করেন তিনি।

৬ আগস্ট :

পোর্ট কানেকটিং রোড যান চলাচলের উপযোগী করে তুলতে ৫ দিনের আল্টিমেটাম

৬ আগস্ট চসিক প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথে নগরীর পোর্ট কানেকটিং রোডে চলে যান এবং ৫ দিনের মধ্যে এই রোডকে যান চলাচলের উপযোগী করার আল্টিমেটাম দেন সুজন।

খোরশেদ আলম সুজন সেদিন পোর্ট কানেকটিং (পিসি) রোড পরিদর্শনকালে বলেছিলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে পোর্ট কানেকটিং সড়কটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘসুত্রিতায় নিমজ্জিত হয়ে বছরের পর বছর এই সড়কের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়নি। যা অত্যন্ত দু:খ জনক। এ-নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মনে ক্ষোভ সৃষ্টি ও চট্টগ্রামের সৌন্দর্য ও সুনামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ৫ দিনের মধ্যে যান চলাচলের ব্যবস্থা করতে না পারলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি বাতিল করার সুপারিশ করা হবে মন্ত্রণালয়ে।

সুজন বলেছিলেন, বিগত দিনে যে সময় গড়িয়েছে এখন আর সময় ক্ষেপনের কোন সুযোগ নেই। এই সড়কে আগামী ৫ দিনের মধ্যে রাস্তায় যত গর্ত রয়েছে তা ভরাট করে যান চলাচলের উপযোগী ও আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে অবশ্যই কাজ সম্পাদনের কড়া নির্দেশনা দেন প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।

পিসি রোডের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন, আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব আমি সর্বোচ্চ সততার মাধ্যমে পালন করতে চাই। আপনারাও আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে পালন করবেন। যারা দুর্নীতি করেছেন, তারা সাবধান হয়ে যান। আমি যার কাছে অনিয়ম দেখবো, দুই নাম্বারি দেখবো, নগরবাসীর সঙ্গে যারা বেইমানি করবেন তাদের আমি কোনোভাবেই ছাড় দেব না। নগরবাসীর সেবায় নিয়োজিতরা যারা মানুষকে কষ্ট দেয় তাদের আমি ছাড় দেব না। এসব অন্যায়ের সঙ্গে আমি আপস করবো না। ভুল করা অপরাধ না। কিন্তু ইচ্ছা করে ভুল করা অপরাধ।

‘এই শহর আমাদের শহর। পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরের একটি চট্টগ্রাম। জলাবদ্ধতা এই শহরের প্রধান সমস্যা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীকে দিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করাচ্ছেন। উনারা রাতদিন পরিশ্রম করছেন। আশা করছি, এক বছরের মধ্যে একটা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আমরা পৌঁছতে পারবো।’, বলেন সুজন।

৭ আগস্ট :

অ্যাকশন শুরু ; যেই কথা সেই কাজ

চসিক প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার দিনই দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের তওবা করে ভালো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন সুজন। অপকর্ম করলে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। যেই কথা সেই কাজ। চসিকের তেল চুরির সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত চালককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন চসিকের নবনিযুক্ত প্রশাসক সুজন।

দায়িত্ব নেয়ার পরদিন ৭ আগস্ট (শুক্রবার) সকাল ১০টার দিকে চসিক পরিচালিত মেমন হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স থেকে তেল চুরি করে বিক্রির দৃশ্য ধরা পড়ে স্থানীয় বাসিন্দা শরিফের ক্যামেরায়৷ মুহূর্তে সেটা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে।

এ ঘটনা জানার পরপরই চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাককে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দেন। এ প্রেক্ষিতে তদন্ত করে অভিযুক্ত চালক কাজল চন্দ্র সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পান সুদীপ বসাক। এ কারণে চালকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করেন তিনি। তেল চুরির সত্যতা পাওয়ায় চালককে সেদিনই অব্যাহতি দেওয়া হয়।

৮ আগস্ট :

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

৮ আগস্ট (শনিবার) সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বাঙালির স্বাধীন জাতিসত্তা নির্মাণের স্মৃতিময় স্বাক্ষী ৩২ নম্বর ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধু ভবনে যান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। সেখানে স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

ওই উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সুজন বলেছিলেন, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও প্রধানতম বন্দর নগরীতে প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী ও সভানেত্রী শেখ হাসিনা যে আস্থা রেখেছেন তার প্রতিদান দিতে আমি আমার সকল সামর্থ্য শতভাগ উজাড় করে দেব। রাজনীতির সহায়ক প্রতিপাদ্য পরিপূরক ব্রত হলো জনসেবা। এই ব্রত পালনে স্বচ্ছতা, সততা ও নিষ্ঠাই আমার চালিকাশক্তি এবং চট্টগ্রামকে একটি বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা কার্যক্রমগুলোর পরিধি বাড়াবো।

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাইডলাইন আমার শক্তি ও প্রেরণার উৎস। আমার পূর্বসূরী মেয়রদের সকল ভালোকাজকে দৃষ্টান্ত হিসেবে ধারণ করে আরও ভালো কাজে উদ্যোগী হবো।’, বলেন সুজন।

শনিবার দুপুরে খোরশেদ আলম সুজন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর মিন্টু রোডে অবস্থিত সরকারি বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে নবনিযুক্ত প্রশাসক চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়নে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং তার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেন।

৯ আগস্ট :

নগরীর সড়ক সংস্কার মিশনে সুজন

বর্ষার কারণে নগরীর বিভিন্ন সড়কে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। ফলে নিত্যদিন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। সড়কের গর্তের দুর্ভোগ থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে প্যাচওয়ার্ক (সড়ক সংস্কার) মিশন শুরু করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক খোরশেদুল আলম সুজন।

গত ৯ আগস্ট (রোববার) সকাল থেকে নগরীর জাকির হোসেন রোডের ওমেন কলেজ মোড়, দেওয়ানহাট ব্রীজ, নন্দনকানন বোস ব্রাদাস মোড়, সদরঘাট মেমন হাসপাতাল মোড় সড়ক, মুরাদপুর সি ডি এ এভিনিউ, এফআইডিসি রোড, সল্টগোলা ক্রসিং, হালিশহর ও একে খান মোড় সড়কগুলোর বিভিন্ন অংশে খানাখন্দে ভরা গুরুত্বপূর্ণ নয়টি স্পটে চলছে মেরামতের কাজ।

১০ আগস্ট :

চসিকের উচ্ছেদ অভিযান শুরু

গত ১০ আগস্ট (সোমবার) চট্টগ্রাম নগরীর রিয়াজুদ্দিন বাজার ও দেওয়ানহাট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এসব অভিযান পরিচালনা করেন চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী ও স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) জাহানারা ফেরদৌস।

এই উচ্ছেদ অভিযানে নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন স্টেশন রোডের রিয়াজুদ্দিন বাজার সংলগ্ন ফুট ওভারব্রীজের নিচ থেকে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া আশপাশের ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে ফুটপাত ও ফুটওভারব্রীজের নিচের অংশ অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়।

সোমবার বিকেলে টাইগারপাসের চসিক নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে বৈঠককালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেছিলেন, সড়ক উন্নয়নকাজে ঠিকাদারের গাফিলতি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে লাইসেন্স বাতিল ও কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। খেয়াল রাখতে হবে ওয়ার্কঅর্ডারে বর্ণিত সময়ের মধ্যেই ঠিকাদার কাজ সম্পন্ন করছে কিনা।

চসিক প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেছিলেন, চসিকের প্রকৌশল বিভাগের কাছে নগরবাসীর অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। এ বিভাগের কাজগুলোর সফলতা যেমন দৃশ্যমান তেমনি ভুল-ভ্রান্তিগুলোও জনগণের কাছে দৃশ্যমান। এ ভুলভ্রান্তিগুলো সংশোধন করে এগিয়ে যেতে হবে। প্রকৌশলীরা হচ্ছেন এ শহর উন্নয়নের রুপকার। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের ওপর জোর দেন তিনি।

১১ আগস্ট :

অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম

গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে সাগরিকা মোড় থেকে নয়াবাজার পর্যন্ত পোর্ট কানেকটিং সড়ক উন্নয়ন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনকালে নগরীর সাগরিকা মোড় হতে নয়া বাজার পর্যন্ত সমস্ত অবৈধ স্থাপনা, ফুটপাতের উপর বসানো দোকানপাট ও স্তুপকৃত মালামাল আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সরিয়ে নেয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।

পোর্ট কানেকটিং সড়ক উন্নয়ন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনকালে সুজন বলেন, চসিক প্রশাসক হওয়ার পূর্ব থেকে এই রাস্তার হালচিত্র আমাকে ব্যথিত করতো। তাই দায়িত্ব নেয়ার পর পোর্ট কানেকটিং সড়ক কাজ ত্বড়িৎ গতিতে সম্পন্ন করার প্রতিজ্ঞা করেছি। পুরো নগরীর মধ্যে এই সড়কটি অতিগুরুত্বপূর্ণ অথচ কী অদৃশ্য কারণে এতদিন যাবত এইকাজ সম্পন্ন হলো না।

সুজন বলেন, আমি রাত-দিন এই রাস্তায় থাকবো, আমি দেখতে চাই এখানে বাঁধা কোথায়? যেখানে বাঁধা-সেখানেই লড়াই। আমি ছাত্র রাজনীতি করে এই পর্যায়ে এসেছি রাস্তায়-ই আমার রাজনীতি আমি রাস্তাতেই থাকবো এবং সমাধান আনবো।

এসময় তিনি রাস্তার দু ইপাশে অবস্থিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান যারা অবৈধভাবে চসিকের ড্রেন দখল করে জনচলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকে আমি আপনাদের একজন হয়ে বলে গেলাম, নিজ দায়িত্বে এসব অপসারণ করেন নচেৎ আগামীকাল আমাকে দেখবেন প্রশাসকের ভূমিকায়। এসব অবৈধ স্থাপনা না সরালে আগামী ২৪ ঘন্টা পর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা ও জরিমানা গুনতে হবে।

পোর্ট কানেকটিং সড়কের কোথায় কি পদক্ষেপ নিলে বা কি ধরনের কাজ করলে ভালো হয় সে বিষয়েও অনেকের কাছে পরামর্শ গ্রহণ করে বলেন, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে যে সময় নষ্ট হয়েছে তা আর সহ্য করা হবে না। এখন শুধু কাজ আর কাজ। এই দুর্ভোগ কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

উপস্থিত শত শত এলাকাবাসী জড়ো হয়ে প্রশাসক সুজনের এহেন পদক্ষেপের জন্য সাধুবাদ জানান। প্রশাসক ও ঠিকাদার এলাকাবাসীকে আগামী সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান উন্নয়ন সড়ক উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

১২ আগস্ট :

এয়ারপোর্ট সড়কের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে সুজন

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বাস্তবায়িত উড়ালসেতু ও এয়ারপোর্ট সড়কের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে যান সুজন। আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টিকারী ওয়াসার পাইপগুলো সরিয়ে নিতে এবং রাস্তায় যত গর্ত ও খানা-খন্দক আছে তা সংস্কার করে কার্পেটিংয়ের নির্দেশনা দেন।

২০ আগস্টের মধ্যে এয়ারপোর্ট সড়ক কার্পেটিংসহ যান চলাচল উপযোগী করার নির্দেশ

নগরীর এয়ারপোর্ট সড়কের চলমান উন্নয়নকাজে সমন্বয়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে চসিক। তাই চসিক প্রশাসক চসিকের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের এ বিষয়ে নজরদারি বাড়িয়ে ও কাজের গুণগতমান অক্ষুণ্ন রাখতে নির্দেশনা দেন।

নবনিযুক্ত চসিক প্রশাসক ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম এমন উদ্যোগ সব মহলে প্রশংসার পাশাপাশি তাকে চট্টগ্রামের ‘ফাটা কেষ্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন নগরবাসী। এম এল এ ফাটা কেষ্ট মুভিতে মিঠুন চক্রবর্তী সাতদিন ক্ষমতায় থেকে দেশের চেহারার আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে। তা হলো মুভির চিত্র। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হতে না হতেই খোরশেদ আলম সুজনের উপরোক্ত কাজগুলোই বলে দেয়, তিনিও ফাটা কেষ্ট’র পথে হাটছেন।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

ট্যাগ :

close