বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

ট্রান্সফ্যাটজনিত হৃদরোগ দেশের জন্য ভয়াবহ এক পরিস্থিতি

প্রকাশ: ২০২০-০৯-১১ ১৩:৪৩:৫৫ || আপডেট: ২০২০-০৯-১১ ১৩:৪৩:৫৭

বাংলাধারা ডেস্ক »  

বিশ্বে ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রায় দুই তৃতীয়াংশই হয় বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশে। বাংলাদেশে যত মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হন তার বেশিরভাগের জন্যই এই ট্রান্সফ্যাট দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিমেল সাহা।

সার্বিকভাবে চিকিৎসক ও গবেষকরা চর্বি ও ট্রান্সফ্যাটকে হৃদরোগের জন্য দায়ী করেন। বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগে যত মানুষ মারা যায় তার অর্ধেকই মারা যায় এই হৃদরোগে, যার সংখ্যা প্রায় তিন লাখ।

গবেষকরা বলছেন হৃদরোগ এভাবে ছড়িয়ে পড়ার বড় কারণই হলো ট্রান্সফ্যাট।

মিস্টার সাহা বলছেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভাজা-পোড়া, বিস্কুট, চানাচুর, চিপস বা এ ধরণের অসংখ্য অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা আছে। এটাই ট্রান্সফ্যাটজনিত হৃদরোগের কারণ।

কয়েক বছর আগে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন তাদের এক গবেষণার অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত ১০টি বিস্কুট পরীক্ষা করে এগুলো মধ্যে ৫ থেকে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত ট্রান্সফ্যাট পাওয়া গেছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।

ঢাকার মীরবাগ এলাকার একজন গৃহিনী মারিয়া সুলতানা বলছেন, কোন খাবারগুলোতে এ ধরণের ট্রান্সফ্যাটের ঝুঁকি বেশি তেমনটি তার জানা নেই।

‘আমি সুপার শপ থেকে অনেক কিছু কিনি নিজের, বাচ্চাদের বা পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য। কোথাও তো এসব কিছু লেখা দেখিনা। ফলে জানিওনা যে কোন খাবারগুলো আমার এড়িয়ে চলা উচিত।’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নাজনীন সাফিয়া বলছেন ক্যাম্পাস খোলা থাকলে যেসব খাবার বিক্রি হয় সেগুলোর অনেকগুলো স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এটি তার জানা থাকলেও ট্রান্সফ্যাট বিষয়টি এভাবে তারা জানা ছিলোনা।

‘আমরা তো আড্ডায় গল্পে চানাচুর, মুড়ি বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের মতো ফাস্টফুডই বেশি খাই। কিন্তু কেউ তো বলেনি যে এগুলোর মধ্যে এমন একটি বিপজ্জনক উপাদান তৈরি হয় শুধু রান্নার পদ্ধতির কারণে।’ সূত্র : বিবিসি বাংলা

ট্যাগ :

close