বাংলাদেশ, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার শিকার ২ বছরের শিশু

প্রকাশ:১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

এম মতিন, রাঙ্গুনিয়া »

বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার বিষয় নিয়ে স্বামীর সাথে ঝগড়া লিপ্ত হয় স্ত্রী। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নিজের দুই বছরের কোলের শিশুকে নির্দয়ভাবে পেটালেন এক মা। মা ওই শিশুটিকে কখনও চড় মেরে তো কখনও বেত দিয়ে নির্মমভাবে পেটান। শিশুটির আর্তচিৎকারে পাশ্ববর্তী ঘরের লোকজন ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করলে প্রকাশ পায় নিষ্ঠুর মায়ের এই অমানবিকতার খবর।

সারা শরীরের আঘাতের চিহ্ন নিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয় প্রতিবেশিরা। বর্তমানে শিশুটি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে শিশু সন্তানকে প্রহারের এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর গ্রামে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের আবুল কালাম মিন্টুর পুত্র মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন (৩৫) তার স্ত্রী সুমি আক্তারকে (২৬) বাপের বাড়িতে থেকে টাকা আনতে চাপ প্রয়োগ করে। স্ত্রী সুমি আক্তার বার বার বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে পারবেনা জানালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও পরে ঝগড়াঝাটি হয়। এক পর্যায়ে স্বামী কামাল উদ্দিন বাইরে চলে গেলে মায়ের বুকের দুধ খেতে ক্ষুধার্ত শিশুটি মাকে জড়িয়ে ধরে। এমন সময় নিজের শিশু সন্তানকে ওপর থেকে মাথার চুল টেনে ধরেছেন মা সুমি আক্তার। তবে আদর করার জন্য নয়, নির্দয়ভাবে পেটানোর জন্য। পরে শিশুটি দুধ খাওয়ার জন্য ছটফট শুরু করলে মা সুমি আক্তার প্রথমে গালে চড় মারেন পরে বেত দিয়ে পিঠে এলোমেলোভাবে নির্মমভাবে পেটানো শুরু করে।

এ ঘটনা আশপাশে বাড়ির লোকজন এসে মা সুমি আক্তারকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও শিশুটিকে নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি। পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে এলাকাবাসী শিশুটিকে উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। শিশুর বয়স মাত্র দেড় কিংবা দুই বছর।

ছোট্ট শিশুর ওপর গর্ভধারিণী মায়ের এহেন নিষ্ঠুর অমানবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে জোর সমালোচনা শুরু হয়েছে৷ এলাকাবাসী পাষণ্ড মায়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

মোহাম্মদপুর ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুহাম্মদ বদিউল আলম আজিজ বলেন, ‘প্রায় প্রতিনিয়ত তাদের স্বামী-স্ত্রী মধ্যে ঠুনকো বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাটি ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। এসব না করার জন্য বহুবার আমি তাদেরকে অনুরোধ করেছি। শিশুকে মারধরের বিষয়টি আমি স্থানীয় লোকজনের কাছে শুনেছি। ঘটনা সত্য এবং শিশুটির পিঠে প্রচণ্ড মারধরের চিহ্ন দেখা যায়। অবুঝ শিশুকে মা কোনোদিন এভাবে মারতে পারেনা। শিশুর মায়ের কোনো মানসিক সমস্যা আছে কি না দেখতে হবে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রায়হানুল ইসলাম বলেন, ‘কোন মা নিজের সন্তানকে এভাবে নির্যাতন করতে পারে, তা কোন দিন দেখিনি। শিশুটির চিকিৎসা চলছে।’

তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ব্যাপারে মায়ের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণের খবর পাওয়া যায়নি।

রাঙ্গুনিয়া থানা ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কেউ থানায় অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বাংলাধারা/এফএস/এএ

ট্যাগ :

close