বাংলাদেশ, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রবারণা পূর্ণিমার মাহাত্ম্য

প্রকাশ:৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

মিঠুন বড়ুয়া »

আজ ১ অক্টোবর মহিমান্বিত পবিত্র ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’। এই দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য এক পবিত্র দিন। থেরবাদী বৌদ্ধ বিশ্বে আশ্বিনী পূর্ণিমাকে ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ বলা হয়। বৌদ্ধ ইতিহাসে এ পূর্ণিমার তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য অপরিসীম।

‘প্রবারণা’ শব্দের অর্থ প্রকৃষ্টরূপে বরণ। অর্থাৎ বৌদ্ধ ভিক্ষুরা আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস বিহারে অথবা নির্দিষ্ট স্থানে থেকে শীল, সমাধি প্রজ্ঞার অনুশীলন করেন। অন্যদিকে গৃহীরা তিন মাসে অষ্টমী, অমাবস্যা, পূর্ণিমা তিথিতে উপোসথ শীল পালন করেন দান, শীল ও ভাবনা অনুশীলনের মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ তিন মাস ধর্মীয় অনুশীলন শেষ হয়, প্রবারণা পূর্ণিমার ফানুস উড়ানোর মধ্য দিয়ে।

বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ফানুস উড়ানোর আনুষ্ঠানিকতা থাকলে ও বৌদ্ধদের কাছে এটির অনেক মাহাত্ম্য রয়েছে। রাজকুমার সিদ্ধার্থ গৃহত্যাগ করার পর অনোমা নদীর তীরে গিয়ে পৌঁছেন। সেখানে তিনি তলোয়ার দিয়ে নিজের মাথার চুল কাটেন। চুলের মুটি ধরে অধিষ্ঠান করেন- ‘আমি যদি সম্যকসম্বুদ্ধত্ব লাভ করতে সক্ষম হই, তাহলে এই চুল ভূমিতে না পড়ুক।’ তখন তাবতিংস স্বর্গের দেবতারা সেই চুল নিয়ে স্বর্গে চৈত্য নির্মাণ করেন। সেই থেকে প্রতিবছর প্রবারণা পূর্ণিমার সময় বৌদ্ধরা ফানুস উড়িয়ে স্বর্গের চুলামণি চৈত্যের উদ্দেশে পূজা করে থাকেন।

আবার, ফানুস মানুষের জীবনের প্রতীকী প্রবাহ। বাংলা ছায়াছবিতে যখন গাওয়া হয়- ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, দম ফুরাইলে ঠুস’। আসলেই প্রতিটি মানুষ একেক রকমের রঙিন ফানুস। সলতেবাতি ফুরিয়ে গেলে যেমন ফানুস নিভে গিয়ে মাটিতে পড়ে যায়, ঠিক তেমনি মানুষের আয়ু, পুণ্য শেষ হয়ে গেলে মারা যায়। ফানুস যেমন সন্ধ্যার অন্ধকারে আকাশে বর্ণিল আলোকচ্ছটায় নিজেকে ফুটিয়ে তোলে; ঠিক তেমনি প্রতিটি মানুষের উচিত জ্ঞান, কর্ম আর পূণ্য দিয়ে এই অজ্ঞানতার তমসাচ্ছন্ন পৃথিবীকে আলোকিত করা।

মহামতি গৌতম বুদ্ধ এই প্রবারণা পূর্ণিমার দিনে ভিক্ষুসংঘকে বলেছিলেন- ‘হে ভিক্ষুগণ! তোমরা বহুজনের হিতের জন্য, বহুজনের সুখের জন্য দিকে-দিকে বিচরণ কর।’ এভাবে আমরা মহামানব বুদ্ধের উপদেশকে বুকে ধারন করে বলতে পারি- ‘আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবণী পরে/ সকলের তরে সকলে আমরা/ প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।’ পরের তরে জীবন উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে আমরা প্রবারণার প্রকৃত তাৎপর্য জীবনে উপলব্ধি করতে পারি।

লেখক : সহকারী শিক্ষক, হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, চট্টগ্রাম

ট্যাগ :

close