বাংলাদেশ, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

তরি-তরকারির দাম আকাশচুম্বী

সবজির চড়া দামে নাভিশ্বাস উঠছে স্বল্প আয়ের মানুষের

প্রকাশ:২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ওমর শরীফ »

চট্টগ্রাম নগরীতে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও মিলছে না সুফল। প্রচুর সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কাঁচা বাজারসহ নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে চলেছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় পণ্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নগরীর কাজির দেউড়ি বাজার, রেয়াজউদ্দিন বাজার, চকবাজার, কর্ণফুলী বাজার, স্টিল মিল বাজার, ইপিজেড বাজার, পাহাড়তলী বাজার, আতুরার ডিপো বাজার, ষোলশহর কর্ণফুলী কমপ্লেক্স বাজার, বিবিরহাট বাজার, কর্ণেলহাট বাজারসহ নগরীর বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নাভিশ্বাস উঠছে। খুচরা ও পাইকারী বাজারের মধ্যে ব্যাপক ফারাক। নেই কোন মূল্যতালিকা।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত আলুর দর ৩০ টাকা কোথাও বিক্রি হচ্ছে না। বেশির ভাগ খুচরা বাজারেই বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৫০ টাকায়। এদিকে পেঁয়াজের ঝাঁঝও কমেনি, বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। বাজারে চাহিদা মাপিক সব ধরনের শীতের সবজির দেখা মিললেও দাম দিতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। সব ধরনের সবজির গড় মূল্য ৬০ টাকা। আর এক কেজি কাঁচামরিচের জন্য দাম গুনতে হচ্ছে ২০০ টাকারও বেশি। এদিকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাইকারী ও খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের মূল্য লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসনের গাফিলতিকেই দুষছেন ভোক্তারা।

কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সহ সভাপতি নাজের হোসাইন বলেন, ‘জেলা প্রশাসন সঠিকভাবে বাজার মনিটরিং করছে না। এর ফলে ব্যবসায়ীরা যাচ্ছেতাই দামেই বিক্রি করছেন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য। তিনি আরোও বলেন, আসলে ব্যবসায়ীদের কাছেই গোটা দেশ জিম্মি।

অর্থনীতিবিদরা বলেন, করোনায় অনেকের আয় কমে গেছে, কেউ বেকার হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো নেমে এসেছে নিত্যপণ্যসামগ্রীর অস্বাভাবিক গতি। এতে করে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের লোকজন চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। অথচ এই মৌসুমে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই।

করোনা ভাইরাসের কারণে অনেকের আয়ের উৎস কমে গেছে, কারো আয় একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে, অনেক চাকরিজীবীর বেতনভাতা কমেও গেছে কিংবা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধিটা খুবই অপ্রত্যাশিত এবং উদ্বেগজনক। এতে মানুষের জীবনযাত্রার মানের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বাজার করতে আসা একজন ভোক্তা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, ‘বেতন এর অর্ধেক টাকা যায় কাঁচাবাজারের পিছনে। এভাবে জীবন চালানো খুব কষ্টকর’।

সবজি বিক্রেতারা বলছে, ‘অনেক জায়গায় বন্যা হওয়ায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে তাই সরবরাহ কম। বড় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করেও দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমাদের কিছু করার নেই। দ্রব্যমূল্য উঠানামার পেছনে একটা সিন্ডিকেট সবসময়ই কাজ করে।

তবে এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আশা করছেন অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকরা। প্রচুর সরবরাহ এবং আমদানি থাকা সত্ত্বেও এ অস্থিতিশীল বাজার সম্পূর্ণ অনৈতিক বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইতিমধ্যেই ফুলকপি, শীম, গাজর, মূলা, শালগম, কূমড়াসহ শীতের সব ধরণের সবজি বাজারে আসা শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছে কিছু দিনের মধ্যেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।

বাংলাধারা/এফএস/ওএস/এআর

ট্যাগ :

close