বাংলাদেশ, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আমৃত্যু রাউজানবাসীর পাশে থাকতে চাই : সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা

প্রকাশ:২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ওমর শরীফ  »

আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বৃহত্তর চট্টগ্রামের পৌরসভা নির্বাচন। নির্বাচন ঘিরে রাউজান পৌরসভার পাড়া-মহল্লায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। এতে মেয়র পদপ্রার্থীর দৌড়ে রয়েছেন কয়েকজন। তাদের একজন সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা।

সাইফুল ইসলাম চৌধুরী’র দীর্ঘ ২ দশকের বেশি রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। বর্তমানে রয়েছেন রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে। এছাড়া তিনি রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম চৌধুরী (বেবী)-র সুযোগ্য সন্তান।

সম্প্রতি সাইফুল ইসলাম তার রাজনৈতিক জীবন এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাধারা’র প্রতিবেদক ওমর শরীফ এর সাথে।

বাংলাধারা: রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা কীভাবে?
সাইফুল রানা: ১৯৯৩ সালে এসএসসির পর থেকেই রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। আমাদের নিজ ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ‘সুবর্ণা প্রিন্টার্স’ আওয়ামী লীগের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হত। যেহেতু বাবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলো, তাই ছোটবেলা থেকেই আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনার প্রতি একধরণের ভালোবাসা তৈরি হয়ে যায়।

বাংলাধারা: আপনি ছাত্র-রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন, তখনকার ছাত্র-রাজনীতির সঙ্গে বর্তমান ছাত্র-রাজনীতির পার্থক্য কেমন?
সাইফুল রানা: অনেক পার্থক্য রয়েছে। আমাদের সময়ের ছাত্র রাজনীতি ছিলো সৌহার্দপূর্ণ, শ্রদ্ধা এবং আন্তরিক। সবার সাথে পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে উঠত। আর এখন অনেকেই অনেকের পরিবার সম্পর্কে কিছুই জানে না। এখন হচ্ছে ক্ষমতা, লালসার রাজনীতি।

বাংলাধারা: নেতৃত্ব দানে ছাত্র-রাজনীতি গুরুত্ব কেমন?
সাইফুল রানা: ছোট থেকে যারা রাজনীতির সাথে জড়িত দলের প্রতি তাদের ত্যাগ এবং ভালোবাসা সর্বোচ্চ থাকে। ছাত্রলীগ থেকে যারা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে উঠে আসে তারা দলে গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাধারা: রাজনৈতিক আদর্শ কে?
সাইফুল রানা: বঙ্গবন্ধুর পরে রাজনৈতিক আদর্শ হচ্ছেন আমার বাবা।

বাংলাধারা: বাবার কোন দিকটা অনুসরণ করেন?
সাইফুল রানা: আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের হাত থেকে ‘বঙ্গবন্ধু পুরষ্কার-১৯৭৪’ গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আমি মনে প্রাণে ধারণ এবং বিশ্বাস করি। পাশাপাশি আমার বাবার সততা এবং আদর্শিক গুণাবলি আমি অনুসরণ করি। বাবা সব সময় বলত ‘ভালো থাকতে হলে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত ভালো থাকতে হবে । খারাপ হওয়ার জন্য একটি ঘটনাই যথেষ্ঠ।’

বাংলাধারা: মৃত্যুর আগে আপনার বাবা কি কোনো দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন?
সাইফুল রানা: হ্যাঁ। বাবা বলত যদি রাজনীতি করতে চাও আগে সমাজ, পরিবার এবং বৃহত্তর পরিসরে নিজেকে পছন্দের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। বিশেষকরে মৃত্যুর আগে বলেছেন- যা বলবা, যা করবা, তা তোমার চরিত্রে ধারণ করতে হবে; তাহলেই মানুষ এটা আদর্শ হিসেবে নিবে।

বাংলাধারা: আপনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত, এ সম্পর্কে বলুন?
সাইফুল রানা: বাবার নামে করা ‘শফিকুল ইসলাম ফাউন্ডশন’ এর পক্ষ থেকে অসহায় দরিদ্র রোগীদের যাতায়তের জন্য বিনামূল্যে বিশেষ বাহন ‘দোয়েল’ এর মাধ্যমে নিয়মিত পরিবহন সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়া নিম্নবিত্ত মানুষদের প্রতিনিয়ত নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ও মাস্ক বিতরণ করা হয়। এছাড়া গরীব এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়।

বাংলাধারা: মেয়র নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী?
সাইফুল রানা: আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। সর্বশ্রেণীর মানুষ আমাকে পছন্দ করে। দিনশেষে আমরা সবাই আওয়ামী লীগের কর্মী। আমার পিতা যেভাবে দীর্ঘকাল সংগঠনকে সম্মানিত করেছেন আমিও জয়ী হয়ে পিতার দেখানো পথে হাটবো। আমৃত্যু রাউজানবাসীর পাশে থাকতে চাই। নেত্রীর শুদ্ধি অভিযানে প্রার্থী হিসেবে আমি অন্যতম সারথি।

বাংলাধারা : নির্বাচনে বিজয় হলে আপনার প্রথম পরিকল্পনা কী হবে?
সাইফুল রানা: রাউজান পৌরসভাকে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আনা।

বাংলাধারা/এফএস/ওএস/এআর

ট্যাগ :

close