বাংলাদেশ, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

চকবাজারের পিপলস হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে লাখ টাকা জরিমানা

প্রকাশ:২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাধারা প্রতিবেদন  »

মূল্য তালিকার সাথে চূড়ান্ত বিলের অসামঞ্জস্যতা, হাসপাতালে আইসিইউ ও ব্লাড ব্যাংক না থাকাসহ নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় নগরের চকবাজার এলাকার পিপলস হাসপাতালকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পিপলস হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এই জরিমানা করেন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হাসান। চট্টগ্রাম বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির এবং সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি অভিযানে অংশ নেন।

প্রতিশ্রুত সেবা না দেওয়া, মূল্য তালিকার সাথে চূড়ান্ত বিলের অসামঞ্জস্য এবং অব্যবস্থাপনার কারণে পিপলস হাসপাতালকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে; গণমাধ্যমকে এমনটা জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হাসান।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৩৮ ও ৫২ ধারা এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল আইনের ২০১০ এর ২৮ ধারায় এই জরিমানা করা হয় বলে জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

উল্লেখ্য, গত ১৯ নভেম্বর বাংলাধারা’র এক ভিডিও রিপোর্টে তুলে ধরা হয় পিপলস হাসপাতালের নানা অনিয়ম। এছাড়া সেই রিপোর্টে উঠে আসে পিপলস হাসপাতালের গাফিলতির অভিযোগ। তাতে দেখা যায়- ১৭ নভেম্বর পিপলস হাসপাতালে এক প্রসূতি নারীর নরমাল ডেলিভারি হয়। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় অপারেশন করে জরায়ু বাদ দেওয়া হয় তার। এরপরও রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় রোগীকে গভীর রাতে চট্টগ্রামে মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

১৯ তারিখে করা বাংলাধারা’র ভিডিও রিপোর্ট

চমেকে আইসিইউ খালি না থাকায় বেসরকারি অন্য একটি হাসপাতলের আইসিইউতে ভর্তি করানো হয় ওই রোগীকে। মধ্যরাতে অন্য হাসপাতালে রেফার করে দেওয়ায় ভোগান্তির শিকার হতে হয় রোগীর স্বজনদের। এ নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন তারা।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে পিপলস হাসপাতলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জরিমানা করা হয়েছে।

১৭ নভেম্বর রাতে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় কারও গাফিলতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

ট্যাগ :

close