বাংলাদেশ, ২৬শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জাফর ইকবালের জন্মদিনে

প্রকাশ:২৬শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নাজমুস সাকিব রহমান »

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের জন্মদিন আজ। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে লেখালেখি করছেন তিনি। বিশেষ করে সাই ফাই, শিশুসাহিত্য। এই সময়ের ভেতর কয়েকটা প্রজন্ম তৈরি হয়েছে। বদলেছে রুচি-বোধ। কিন্তু জাফর ইকবাল বদলাননি সেভাবে। স্বভাবতই তার বই পড়ে আসা অনেকে এখন তা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন। আলোচনা-সমালোচনা সবসময়ই ভালো। তবে মনে রাখা প্রয়োজন—তিনি শিশুসাহিত্য লিখেন। যুবক বয়সের বিচার-বুদ্ধি দিয়ে শিশুসাহিত্য পড়া যায় না। তাই ঝামেলা কিছুটা পাঠকের বয়সের।

জাফর ইকবাল তরুণ বয়সে মুক্তিযুদ্ধ দেখেছেন। আর কোনো যুদ্ধতে তার পরিবার, জীবন আক্রান্ত হয়নি। স্বভাবতই তার কাজে মুক্তিযুদ্ধ ঘুরে-ফিরে এসেছে। তিনি সেই বোধই সমস্ত লেখালেখিতে ছড়িয়ে দিয়েছেন। শিশুসাহিত্যের বাইরে জাফর ইকবাল কলাম লিখেন। বড়দের জন্য যেন কলাম ছাড়া কিছুই নেই তার! এসব কলামের পাঠক অনেক। প্রতিবার তার একটা কলাম বের হয়, পাঠক দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে বলা যায়, জাফর ইকবালের ‘তোমরা যারা শিবির করো’ গত দশকের সবচেয়ে আলোচিত কলাম।

চল্লিশ বছরেরও বেশি জাফর ইকবালের লেখক জীবন। একসময় কার্টুনও এঁকেছেন। তার গোঁফ, চশমার ফাঁক দিয়ে তাকানো—সবই ট্রেডমার্ক। তার বেশিরভাগ চরিত্ররা ‘হাতে কিল মেরে’ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। সিনেমায় যেভাবে নায়ক-নায়িকাদের দেখানো হয়, ঠিক একইভাবে শিশুদের চরিত্রায়ন করেন জাফর ইকবাল। তার শিশু চরিত্ররা অসম্ভব বুদ্ধিমান। আত্মবিশ্বাসী। অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করে। তারা সাহসী। কখনোই ভেঙ্গে পড়ে না। আবুল হাসানের কবিতার মত ‘একটা রুক্ষ দুপুর’ তাদের শাসন করে। বিকেলে বাড়ি না ফেরার কথা বলে।

এক জীবনে অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র তৈরি করেছেন জাফর ইকবাল। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যাও অনেক। তার লেখা ছোটগল্পের বই ‘মধ্যরাত্রিতে তিন দুর্ভাগা তরুণ (২০০৪), ‘প্রেত’ (১৯৮৩), পিশাচিনী-(১৯৯২); সায়েন্স ফিকশন ‘কপোট্রনিক সুখ দুঃখ’ (১৯৭৬), ‘মহাকাশে মহাত্রাস’ (১৯৭৭), ‘ক্রুগো’ (১৯৮৮), ‘বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিস্কার’ (১৯৯২), ‘নয় নয় শূন্য তিন’ (১৯৯৬); কিশোর উপন্যাস ‘দীপু নাম্বার টু'(১৯৮৪), ‘বাচ্চা ভয়ংকর কাচ্চা ভয়ংকর’ (১৯৯৮) বা স্মৃতিচারণমূলক রচনা ‘আমেরিকা’ (১৯৯৭) নিয়ে আলোচনা করা যায় বিস্তর। তবে সেসব অন্যদিন।

আপাতত শুধু জন্মদিনের শুভেচ্ছা। জাফর ইকবালের অনেক-অনেক সমালোচনা করবো আমরা। কিন্তু তার আগে তাকে ধন্যবাদ জানাতে হবে—আমাদের বেড়ে ওঠা রঙিন করার জন্য। নামের সঙ্গে পিএইচডি ডিগ্রিটা না ঝুলানোর জন্য। ‘মুহম্মদ’ বানানটা এভাবে লেখার জন্য। এছাড়া জাফর ইকবাল বললেই যে বাংলা সিনেমার কোনো নায়কের কথা মাথায় আসে না—তার জন্যও ধন্যবাদ পেতে পারেন তিনি। আশা করি, আমরা একদিন ধন্যবাদ জানানো শিখে যাবো।

লেখক : গদ্যকার, সাংবাদিক

বাংলাধারা/এফএস/এআর

ট্যাগ :

close