বাংলাদেশ, ২৬শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

এখনই সতর্ক হোন শিশুর খাবারে

প্রকাশ:২৬শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাধারা ডেস্ক  »

নবজাতক বা বাড়ন্ত শিশুদের বয়স উপযোগী পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার ব্যাপারে আমাদের দেশে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অনেক বাবা-মাই জানেন না যে, তাদের সন্তানদের মায়ের দুধের পাশাপাশি কখন এবং কিভাবে সম্পূরক খাবার খাওয়াতে হবে। কিন্তু শিশুর বেড়ে উঠা ও বিকাশের ক্ষেত্রে পুষ্টিহীনতার জন্য অনেক জরুরি এটি।

শিশুর পুষ্টিকর উপাদান নিশ্চিত করা এবং শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা করার জন্য শিশুর জন্মের পর অবশ্যই তাকে মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলে শাকসবজি ও ডিমের মতো অন্যান্য পারিবারিক খাবারগুলো চটকে খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হবে। দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত শিশুকে এভাবে পারিবারিক খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। আর এসবই হল পরিপূরক খাবার। শিশুকে এভাবে খাওয়ানোর ফলে মায়ের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য খাবার খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়। ফলে শিশুর ক্রমবর্ধমান পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়াও এতে করে ছয় মাস থেকে ২৪ মাস অর্থাৎ দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়। পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে।

বিশ্বজুড়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে উচ্চ হারে পুষ্টিহীনতা দেখা যায় বলে জানা যায় ইউনিসেফ এর এক প্রতিবেদনে। সেখানে শিশুদের এই উচ্চ হারে পুষ্টিহীনতার জন্য দায়ী করা হয়েছে পুষ্টির ঘাটতি ও অসুস্থতাকে। সন্তানকে পরিপূরক খাবার দেওয়ার সময়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোন খাবার খাওয়াতে হবে এ বিষয়ে বাবা-মার জ্ঞান খুবই সীমিত।

খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার জন্য পুরো জনগোষ্ঠীর এক চতুর্থাংশ শিশুকে প্রয়োজনীয়মতো খাবার দেয়া সম্ভব হয় না। সীমিত আয়ের পরিবারগুলো মাছ-মাংসের মতো প্রাণীজ আমিষ তারা কিনতে পারে না। বয়স অনুযায়ী খাবার দেওয়ার হার জাতীয়ভাবেই কম এবং কিছু কিছু শহরের বস্তি এলাকায় এই হার আশঙ্কাজনকভাবে কম।

অনেকে শিশুকে বুকের দুধের পরিবর্তে বিকল্প দুধ দিয়ে থাকেন। এটা একদমই ঠিক নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুড়া দুধসহ অন্যান্য সকল দুধ পরিপূর্ণ জীবাণুমুক্ত নয়। বাজারে পাওয়া এসব দুধে এন্টারোব্যাকটার সাকাজ্যাকি এবং সালমোনিলা নামক ব্যাকটেরিয়া থাকে এবং এসব শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর। শিশুকে বিকল্প দুধ খাওয়ানোর জন্য ব্যবহার করা বোতল, চুষণি, বোঁটায় বিসফেনল থাকে। এসব ক্ষতিকর উপাদান শিশুর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। বিকল্প দুধে শিশুর হজম ক্ষমতা ঠিক মতো না হওয়ায় শিশুর পেট ব্যথা ও কোষ্ঠকাঠিন্যতার সমস্যা হয়। এবং অনেক সময় শিশু কান্নাকাটি করে।

শিশুর বৃদ্ধিতে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অনেক সহায়ক ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বলা যেতে পারে ব্রেন, চোখ ও ত্বক। কিন্তু শিশুকে বিকল্প দুধ খাওয়ানোর ফলে শিশুর বৃদ্ধি ব্যহত হয়। এছাড়া শিশুর বিকল্প দুধে আয়রন না থাকার জন্য শিশুর মানসিক ও বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশে বিঘ্ন ঘটে এবং রক্তস্বল্পতায় ভোগে শিশু।
সূত্র: ইউনিসেফ বাংলাদেশ

বাংলাধারা/এফএস/এআর

ট্যাগ :

close