বাংলাদেশ, ১৫ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

‘বই প্রকাশের ইনসিডেন্ট পিতা-মাতার সন্তান লাভের মতই’

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১

রেজা খসরু। পড়াশোনা করছেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে। ছোটবেলা থেকেই বই প্রিয় এই মানুষ লিখে গিয়েছেন অজস্র কবিতা। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘মস্তিষ্কের কফিশপে’। বইটি প্রকাশ করেছে ধূমকেতু প্রকাশনী। কবি তার নতুন বই প্রকাশকালের অনুভূতি এবং সমসাময়িক সাহিত্য প্রসঙ্গে বিবিধ ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন আকবর হোসেন রবিন এর সঙ্গে।

সম্প্রতি আপনার কবিতার বই প্রকাশিত হলো। আপনার অনুভূতি জানতে চাই

বই প্রকাশের ইনসিডেন্ট আমার কাছে পিতা-মাতার সন্তান লাভের মতই। এতটা যত্ন-আত্তি, পরিশ্রমের পর শব্দগুলো যখন মলাটবদ্ধ হয়; সে এক অন্যরকম অনুভূতি। আলহামদুলিল্লাহ।

বই প্রকাশের সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন কীভাবে?

প্রথমে আসলে সাহস পাচ্ছিলাম না। লেখালেখি প্রধান শখ গুলোর অন্যতম হলেও আমি একজন পাঠক, সাহিত্যের ছাত্র; সাহিত্যিক নই। তবুও কাছের মানুষগুলো বিশেষ করে মামুন মুনতাসির ভাই, বড় চাচু উনাদের উৎসাহে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছালাম।

কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

আলহামদুলিল্লাহ্, আকাঙ্ক্ষার চেয়েও বেশি।

নিজের লেখার প্রতি আত্মবিশ্বাস কতটুকু?

আমি একজন হতাশ মানুষ। আত্মবিশ্বাস ছিলই না বললে চলে। বই প্রকাশের পর নিজেকে নিজে বিশ্বাস করতে শুরু করেছি এবং ধীরে ধীরে সে বিশ্বাস বাড়ছে।

কবিতাই কেন লিখলেন? ভাব প্রকাশের জন্য শিল্পের আরও তো মাধ্যম আছে।

যুক্তিহীন বললে প্রেম-আবেগ; কেন জানি না—ভালো লাগে। আর আমার মতে কবিতায় যত অল্প কথায় ভারি ম্যাসেজ দেয়া যায় গল্প-উপন্যাসে তা হয় না। আমি আসলে অল্প শব্দে বেশি কিছু বুঝানোর পক্ষে যা কবিতা আর ছবি আঁকায় হতে পারে।

শিল্প না-কি পাঠক, আপনার দায়বদ্ধতা কার কাছে?

দায়বদ্ধতা আসলে নিজের বিশ্বাসের কাছে। নিজের ভেতর অন্য এক ‘আমি’ আমাকে শব্দে শব্দে প্রতিবাদ করতে সারাক্ষণই তাড়া করে। কিছুটা তার প্রাণ পায়, কিছু তার হারিয়ে যায়। তাই নিজের কাছে নিজেই দায়বদ্ধ।

অনেকে বলেন লেখার ক্ষেত্রে প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে আপনারা প্রস্তুতির কথা জানতে চাই।

এক্ষেত্রে একেকজনের একেক বয়ান থাকে। যেমন ধরুন—আমরা শিখতে স্কুলে যাই, সব শিখে স্কুলে ভর্তি হই না। তাই পাঠ নিয়েই সাহিত্যে প্রবেশ করতে হবে—সেটা সবসময় ঠিক না। সাহিত্য প্রতিভা মূলত আপনা আপনি জন্ম নেয়। তবে আমি একজন পাঠক। নিয়মিত পড়তে ভালো লাগে। আর প্রায় বছর দশেক আগ থেকে একটু-আধটু লিখালিখি করলেও কখনো নিজেকে বিদগ্ধ মনে হয় নি। এখনো না। বাকীটা পাঠক বিচার করবে।

পান্ডুলিপি গোছানের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়ে বেশি নজর দিয়েছেন?

আমার দৃষ্টিভঙ্গি যে সব সময় সঠিক, তা কিন্তু না। আমি যা ভাবছি, তা’ই ঘটছে—এমন ভাবনা বোকামি। তাই একজন পাঠক কিভাবে আমাকে গ্রহণ করবে সেই লক্ষে কয়েকজন সাহিত্যিক, পাঠককে দিয়ে সম্পাদনা করাই। তাদের সুচিন্তিত বিবেচনা ও আমার নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে প্রাথমিক বাছাইয়ের ১৫০+ কবিতা থেকে প্রায় ৫০ টি কবিতা নিয়ে পান্ডুলিপি তৈরি করি। এবং তা বারবার সম্পাদনা করি।

একজন পাঠক হিসেবে যখন নিজের বই দেখছেন/ পড়ছেন, তখন বইটিকে কেমন মনে হচ্ছে?

আত্মবিশ্বাস বাড়ার সাথে সাথে নিজের প্রতি নিজের ভালোবাসাও বাড়ছে। একজন পাঠক হিসেবে যখন নিজের বই পড়ি তখন মনে হয় অন্তত আরও কয়েকবছর আগে আমার সাহিত্যে প্রবেশ করা উচিত ছিল। হুম, আসলেই। সেটা হলে হয়তো এতদিনে নিজেকে আরও ঝালিয়ে নিতে পারতাম।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

ট্যাগ :

close