বাংলাদেশ, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

নিজেকে লুকিয়ে চলতে ভালো লাগে না ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ ঐশীর

প্রকাশ: সোমবার, ৮ মার্চ, ২০২১

বাংলাধারা প্রতিবেদক »

জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী একজন বাংলাদেশী মডেল ও অভিনেত্রী। এছাড়া তিনি ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ সুন্দরী প্রতিযোগিতার বাংলাদেশ চ্যাপ্টার ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮’ বিজয়ী।

সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন সময় টিভির একটি অনুষ্ঠানে তাঁর জীবন ও কাজ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। বাংলাধারার এই প্রতিবেদনে ঐশীর খোলামেলা আলোচনা তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন : আপনার লাইফস্টাইল কতটা পরিবর্তন হয়েছে ?
ঐশী : ‘আমার মধ্যে কোন পরিবর্তন আসেনি। তবে আমার লাইফস্টাইল অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। বলতে পারি আকাশ-পাতাল। সত্যি কথা বলতে কি সেটা আমার ভালো লাগে না।’

প্রশ্ন : এখনকার লাইফস্টাইলের কোনটা আপনার ভালো লাগে না?
ঐশী : ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি সাধারণ জীবন পছন্দ করি। অনেক সময় ইচ্ছে করে রাস্তার পাশে ফুসকা খেতে, আবার কখনও ইচ্ছে করে বন্ধুদের সাথে বেড়াতে যাই। কিন্তু এখন তা করতে পারি না। কোথাও গেলে নিজেকে হাইড করে রাখতে হয়। মানুষকে বুঝতে দিই না আমি ঐশী এখানে আছি।’

প্রশ্ন : এখন পর্যন্ত আপনি সবচেয়ে কী দুঃসাহসিক কাজ করেছেন?
ঐশী : আমি ছোট বেলা থেকেই বেশ দুঃসাহসী।

প্রশ্ন : ঢাকায় এসে মিস ওয়ার্ল্ডের জন্য রেজিস্ট্রেশন করার পর আপনার মধ্যে কেমন এক্সাইটমেন্ট কাজ করতো?
ঐশী : এইচএসসি শেষ করে আমি ঢাকায় এসেছিলাম। তখন চিন্তা করলাম লাস্ট ইয়ারে তো এই সময় মিস ওয়াল্ড বাংলাদেশ হলো, এবার কি শুরু হয়েছে? ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখলাম রেজিস্ট্রেশন চলছে। আমি অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করলাম। এরপর আমাকে অডিশনের জন্য ফোন করেন। মূলত এরপর থেকেই আমার মধ্যে একটা এক্সাইটমেন্ট কাজ করতো।

প্রশ্ন : প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করতে পরিববার থেকে কতটা সাপোর্ট পেয়েছেন?
ঐশী : অনলাইনে প্রতিযোগিতার জন্য ফরম পূরণ করে যখন অডিশনের জন্য ডাক পেলাম তখন প্রথমে আমার বাবাকে ফোন করে এ বিষয়ে জানালাম। দেখলাম বাবা বেশ সাপোর্ট করছে। এরপর অডিশনে গেলাম। আর ইয়েস কার্ড পেলাম।

প্রশ্ন : মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশে বিজয়ী হতে আপনার স্ট্রাগল সম্পর্কে আমরা জানতে চাই।
ঐশী : মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশে যে স্ট্রাগলগুলো ছিল সেগুলো ঠিক ছিল। যখনই আমার কোনো পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের ডেকেছি তখনই পেয়েছি। কিন্তু যখন মিস ওয়ার্ল্ডে অংশ গ্রহণের জন্য চায়না গেছি তখন মূল স্ট্রাগলটা করতে হয়েছিল। প্রথম স্ট্রাগলটা হচ্ছে চায়নারা আমাদের ভাষা তো বুঝেই না, অনেকে ইংরেজিও বুঝেনা, বুঝলেও বলে না। মূলত ভাষাগত সমস্যাটা সবচেয়ে বেশি ছিল। বিউটি প্রেজেন্টের ক্ষেত্রে পোশাক একটি বড় বিষয়। অন্যান্য দেশের অংশগ্রহণকারীরা প্রয়োজনীয় সবকিছুই স্পন্সর পায়। কিন্তু আমি স্পন্সর থেকে তিনটা ড্রেস, আমাদের সংগঠনের প্রধান থেকে একটা শাড়ি ছাড়া বাকি সব আমি নিজেই কেনাকাটা করেছিলাম।

আমি যখন ওখানে গেলাম, তখন আমি দেখলাম আমি যে ড্রেসগুলো এনেছি সেগুলো বেশিরভাগই কাজে লাগছে না। সাত দিনের মাথায় আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম, আমি কি করবো! অন্যান্য দেশের প্রতিযোগিরা ঠাণ্ডা মাথায় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে। আমাকে প্রতিদিনিই এবিষয়গুলো নিয়ে অংশগ্রহণ করতে হতো। ঠান্ডা মাথায় অংশগ্রহণ করতে পারতাম না।

প্রশ্ন : আপনি তো খুব কম পোশাক সাথে নিয়েছিলেন। এগুলো দিয়ে কি আপনি সব ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে পেরেছিলেন?
ঐশী : সাত দিনের মাথায় আমি দেখলাম, আমার ড্রেসগুলো শেষ হয়ে আসছে। তখন আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম। এরপর আমি আমার ভাইয়াকে ফোন করে সহযোগিতা চাইলে ভাইয়া চায়নাতে তার ব্যবসায়ীক অংশিদারের মাধ্যমে আমাকে কিছু ড্রেস কিনে পাঠালো। মূলত সেই ড্রেসগুলো দিয়েই আমি বাকি ইভেন্ট শেষ করেছিলাম।

প্রশ্ন : শাড়ীর কথা বলছিলেন?
ঐশী : আমার কাছে একটা শাড়ী ছিল। কিন্তু শাড়ীর ভেতরে কোনো ব্লাউজ ও পেটিকোট ছিল না। এদিকে আমি কোনোদিন একা শাড়ীও পরিনি। তখন চিন্তা করলাম শাড়ী দুটো ওয়েতে পরা যায়। একটা হলো কুচি দিয়ে শহরের স্টাইলে, আরেকটা হলো গ্রামের এক পঁ্যচের শাড়ী। তো আমাদের সমাজের এমন অনেক গ্রামে ব্লাউজ ছাড়াই শাড়ী পরা হতো। তো আমি সেভাবেই শাড়ীটা পরলাম।

প্রশ্ন : ঐ সময়টা আপনার কাছে কেমন ছিল?
ঐশী : ঐ সময়টা আমার জন্য অনেক সমস্যা ছিল। কারণ, রেডি হওয়ার জন্য খুব কম সময় ছিল। একে তো আমি আগে শাড়ী পরিনি, অন্যদিকে ব্লাউজ ছাড়াই শাড়ী!

বাংলাধারা/এফএস/এআই

close