বাংলাদেশ, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

জীবন না থাকলে জীবিকার আর মূল্য কী?

প্রকাশ: রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১

মো. সৈকত  »

করোনা মহামারির প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সরকারের ঘোষিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জরুরি সেবা ছাড়া বাকি সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

সরকারের এই “সর্বাত্মক লকডাউন” কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ঘোষণায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের লোকদের কপালে চিন্তার ভাজ ফেলেছে। গত বছর সরকারি লকডাউনে অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন যেটার ক্ষতি আর পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হয় নি।

জীবন আগে নাকি জীবিকা আগে, করোনা মহামারি আমদের সেই বিরল পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করালেও একথা সত্য জীবন না থাকলে সেই জীবিকার আর মূল্য থাকে না।

মানুষের জীবনে অর্থের চেয়ে বড় অবলম্বন আর নেই কিন্তু সেই অর্থ উপার্জন করতে গিয়ে যদি জীবনই ঝুঁকির মধ্যে পরে যায় তাহলে সেই অর্থের আর মূল্যই কি থাকলো?

পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি যদি জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান, তাহলে সেই পরিবারের ভরণ পোষণের দায়িত্ব কে নিবেন?

একদল বলছেন ‘’রাখে আল্লাহ্ মারে কে ‘’ আমাদের আল্লাহ্ আছে তাই করোনা কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আমরা যদি কাজে বের না হয় তাহলে আমাদের কে খাওয়াবে? এইসব যারা বলছেন, তারাই একসময় বছর বছর সন্তান জন্ম দিয়ে বলতেন, কোন সমস্যা নেই আল্লাহ্ খাওয়াবে। আর এখন করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অনেকেই সেই আল্লাহ্র উপর আর ভরসা করতে পারছেন না।

রোগ মহামারির সময় কি করতে হবে সেই বিষয়ে হাদিসেও নির্দেশনা আছে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘কোথাও মহামারি দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থানরত থাকলে সে জায়গা থেকে চলে এসো না। অন্যদিকে কোনো এলাকায় এটা দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থান না করলে সে জায়গায় যেয়ো না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১০৬৫)

সরকারের এই লকডাউন অর্থনীতির জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত মনে হলেও সার্বিক দিক বিবেচনায় অনেক ভাল সিদ্ধান্ত । গত বছর লকডাউন কার্যকর করার জন্য সরকার অনেক কঠোর হয়েছিল। তখন নাগরিকরা মুখে মাস্ক পড়া সহ করোনা থেকে বাঁচতে নানা সতর্কতা অবলম্বন করেছিল। মানুষের মধ্যে এক ধরনের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছিল এবং সেটা মেনে চলার প্রবণতা ছিল। তার ফলশ্রুতিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর হার অনেক কম ছিল। বাংলাদেশের মত জনবহুল দেশে যা অনেকটা স্বস্তিকর।

সাম্প্রতিক সময়ে মানুষ অনেক বেশি অসেচতন হয়ে পরেছে। শারীরিক দূরত্ব তো অনেক দুরের ব্যাপার ঠিকমতই মাস্ক ব্যবহার করছে না। ফলে করোনার প্রকোপ বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক হারে। তাই বাধ্য হয়ে সরকার আবারো কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে।

লকডাউন শুধু আমাদের দেশে নয় , বিভিন্ন দেশে দেওয়া হচ্ছে করোনার দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় ঢেউ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। উন্নত দেশে নাগরিকদের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। স্কিন্তু আমাদের মত দেশে সরকারের পক্ষে সবাইকে সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব নয়।

বৈশ্বিক এই বিপর্যয় সকলে মিলেই কাটিয়ে উঠতে হবে। সরকার কিংবা নাগরিক কেউ কারো প্রতিপক্ষ নয়। একে অন্যকে দোষারোপ করে দায় এড়ানো যায় কিন্তু দুর্যোগ মোকাবেলা করা যায় না। করোনার বিস্তার ঠেকাতে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদের দায়-দায়িত্বও কম নয়।

নিম্নবিত্তদের এই আর্থিক দুর্দশা অনেকটাই লাঘব হতে পারে যদি দেশের ধনীরা এগিয়ে আসেন। গত বছর অনেকে এগিয়ে এসেছিলেন। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ান তাহলে কাউকে না খেয়ে মরতে হবে না।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

ট্যাগ :

close