বাংলাদেশ, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

এক বাজারেই দৈনিক তিন ঘন্টায় ৩০ লাখ টাকার মাছ বিকিকিনি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১

খালেদ মনছুর  »

কর্ণফটুলী টানেল, ইকোনমিক জোনসহ নিত্য নতুন কল-কারখানা স্থাপনের কারণে আনোয়ারার মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে সুষম খাদ্যের চাহিদাও। আর ভোজন প্রিয় মানুষের খাদ্য তালিকায় প্রথম স্থানেই রয়েছে মাছ। মাছের এমন চাহিদার যোগান হয় বিভিন্ন উৎস থেকে। আনোয়ারার সাগর, নদী, পুকুরসহ বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপাদিত মাছ একত্রিত হয় কালাবিবির দীঘির মৎস্য আড়তগুলোতে। এখানে আনোয়ারা ছাড়াও পাশ্ববর্তী উপজেলাগুলোসহ চট্টগ্রামের বাইরে সাতক্ষীরা ও খুলনা থেকেও মাছ নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা।

জানা যায়, প্রতিদিন ভোর পাঁচটা থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত তিন ঘন্টা চলে এই মাছের বাজার। তিন ঘন্টায় প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকার বেচাকেনা চলে। ভোর হতেই ক্রেতা বিক্রেতার পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে আড়ৎগুলো। কালাবিবির দীঘির এই আড়ৎগুলোকে ঘিরে গড়ে উঠেছে আরো অসংখ্য হোটেল, রেস্তোরাঁসহ নানা দোকানপাট। আঁড়তে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা এসব দোকান থেকে চা-নাস্তা ভাত -কিনে খায়। এছাড়া এসব আঁড়ত ঘিরে কর্মসংস্তান হয়েছে শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারীর। সব মিলিয়ে আনোয়ারার অর্থনীতিতে একটি নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে কালাবিবির দীঘির মোড়ের মৎস্য আড়ৎগুলো।

এসব আঁড়তের কারণে আনোয়ারার বাজারগুলোতে মাছের সরবরাহ বেড়েছে আগের চেয়ে দ্বিগুণ। ফলে খুচরা বাজারে মাছের দামও রয়েছে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের মধ্যে। তবে বিভিন্ন কারণে তাদের ব্যবসায় বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন আড়তদাররা। তারা এসব কারণগুলো চিহ্নিত করে এর সুষ্ঠু সমাধান করার জন্য আহ্বান জনিয়েছেন প্রশাসনের প্রতি।

আড়তদাররা জানান, কয়েকদিন আগে এবিসি মৎস্য আড়তে ঘটে যায় একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা। গত ১৬ এপ্রিল ভোর ছয়টায় আনোয়ারা উপজেলা মৎস্য অফিসের অফিস সহকারী এনামুল হক ও ক্ষেত্র সহকারী জাহেদ আহমদ জেলি মিশ্রিত চিংড়ি বিক্রি করার অজুহাতে এবিসি মৎস্য আড়তে গিয়ে প্রায় এক লক্ষ টাকার চিংড়ি জব্দ করে নিয়ে আসতে চাইলে দোকানের কর্মচারীরা বাধা প্রদান করেন। এসময় কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে অফিস সহকারি এনাম ও ক্ষেত্র সহকারি জাহেদ আহমদকে লাঞ্চিত করে দোকানের কর্মচারীরা।

পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমদকে বিষয়টি জানালে তিনি উপজেলা ভূমি সহকারি কমিশনার তানভীর হাসান চৌধুরীকে পাঠিয়ে দোকানে তালা মেরে বন্ধ করে দেন। দুপুরে উভয় পক্ষের উপস্থিতিেিত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে এবিসি মৎস্য আড়ত কর্তৃপক্ষ মৎস্য অফিসের এনাম এবং জাহেদ আহমদের বিরুদ্ধে দাবী করা অর্থ না দেয়ায় মাছে জেলি আছে বলে এক লক্ষ টাকার চিংড়ি নিয়ে আসার জন্য গাড়িতে তুলে ফেলার অভিযোগ করে।

শুনানি শেষে ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা আর ঘটবেনা বলে লিখিত দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে মাছের আড়ত খুলে দেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য অফিসের অফিস সহকারি মোহাম্মদ এনাম বলেন, আড়তের কর্মচারীরা ক্ষমা চাওয়ায় এবং আর কখনো এই ঘটনা ঘটবেনা বলে লিখিত দেয়ার পর সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে।

এবিসি মৎস্য আড়তের মালিক মো. শাহেদ বলেন, আমার মাছে কোনো জেলি মিশ্রিত ছিলনা। এটা আমি তাদের সাথে চ্যালেঞ্জ করেছি। তারপরও তারা মাছগুলো গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে কর্মচারীদের সাথে হাতাহাতি হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দফতরে সকলের উপস্থিতিতে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

ট্যাগ :

close