বাংলাদেশ, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মুনিয়াকে পছন্দ করতেন হুইপপুত্র শারুন, বিস্তারিত জানতে জিজ্ঞাসাবাদ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১

বাংলাধারা প্রতিবেদক :::

গুলশানের ফ্ল্যাটে থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি আনভীর ও মুনিয়ার হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়েছে।

ইতোমধ্যে মুনিয়ার সাথে আরও একজন ব্যক্তির কথোপকথনের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি হচ্ছেন সরকার দলীয় এমপি ও হুইপপুত্র শারুন চৌধুরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শারুন চৌধুরীর সঙ্গে মুনিয়ার কিছু কথোপকথনের স্ক্রিনশটের সূত্র ধরে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে একটি সূত্র তাঁর কাছে কিছু তথ্য জানতে চায়।

শারুন এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, সূত্রের জানতে চাওয়া বিষয়গুলো তিনি জানিয়েছেন। তবে কে তাঁকে ফোন করেছিলেন, সে ব্যাপারে হুইপপুত্র কিছু বলতে চাননি।

গতকাল বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হতে থাকে, মৃত্যুর আগে শারুন চৌধুরীর সঙ্গে মোসারাত জাহান মুনিয়ার কথা হয়েছিল। এ কারণেই শারুনের সঙ্গে কথা বলে ওই সূত্র।

ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশটে কথোপকথন কত তারিখের, তা স্পষ্ট নয়। সময় বিকেল পাঁচটা বাজার কিছু আগে। হোয়াটসঅ্যাপে ওই কথোপকথনে মোসারাত মুনিয়া শারুনকে লেখেন, তিনি ভালো নেই। এরপর লেখেন, ‘উনি তো আমাকে বিয়ে করবে না। কী করব আমি?’ জবাবে শারুন লেখেন, ‘আগেই বলেছিলাম, ওর কথা শুনো না। ও আমার বউকে বলছে বিয়ে করবে, কিন্তু করে নাই। মাঝখানে আমার মেয়েটা মা ছাড়া হয়ে গেছে।’

এছাড়াও চ্যাটিং অন্য কেউ দেখলে সমস্যা হবে বলে শারুন মুনিয়াকে এসএমএস করলে মুনিয়া উত্তর দেন ‘জি না। আমি ডিলিট করে দিই সব। সম্রাট চলে যাওয়ার পর আপনিতো জানেন আমি কত কষ্টে ছিলাম। আপনি ঐ টাইমে আমার পাশে না থাকলে আমি কি করতাম জানিনা।”

জবাবে শারুন লিখেন, “ কি যে বলো না। তুমি না থাকলে আমি আমার বউয়ের নিউজ কিভাবে জানতাম? ৫ লাখ, কোনো টাকা না আমার জন্য। তোমাকে তো আমি লাইক করি তুমি তো জানো।

এরপর মুনিয়া লিখেন, ‘‘ওইটা আমি কোনো দিন ভুলবো না। আমার বোন বলছে যে আপনি একটা ফেরেস্তা। আপনার লাইফে আপনার ওয়াইফের আগে যদি আমি আসতাম।’’জবাবে শারুন লিখেন , ‘‘আমি ভালো মানুষ না। জাস্ট উপকার করি।”

আবার মুনিয়ার উত্তর, আচ্ছা উনি যদি আমার ক্ষতি করে আপনি থাকবেন আমার পাশে? আপনার উপরও তো উনি রাগ।


প্রতিউত্তরে শারুন লিখেন, শুনো আমার সাথে জানতো কে থাকে সব সময়। উনি পিএম, উই রাইট হ্যান্ড। বুঝলা? আর জয় ভাই, ববি ভাই আমাকে অনেক দেখতে পারে। কালকেও কথা হলো উনাদের সাথে। আনভীর কী উনাদের থেকে পাওয়ারফুল?এর উত্তরে মুনিয়া লিখেন, আমার না একটা ঝামেলা হয়ে গেছে। আমি আপনাকে লাস্ট ইয়ারের একটা রের্কড আর কিছু পিকচার দিয়ে রাখি। যদি আমার কিছু হয়। আপনি সবাইকে এটা দিয়েন প্লিজ। আমার আপনার ভিতরে যা হইছে ওইটা কেউ জানবে না। আপনি আমার জন্য অনেক করেছেন। আমি ভুলবো না। আমি হয়তো আর থাকবো না কিন্তু আমাকে আপনি সেভ করিয়েন।

তখন মুনিয়া ভাইরাল হওয়া আনভীরের ফোন রের্কড ও তার সাথে তোলা ছবি দিয়ে লিখেন ‘‘আমাকে লাস্ট ইয়ার থ্রেড দিয়েছিলো। ওইটার রেকর্ডিং আছে। আরও ফটো আমি দিচ্ছি আপনাকে। কিছু স্ক্রিনশটও দিচ্ছি। আপনি প্লিজ আমাকে দেখিয়েন। আমাকে দেখিয়েন আমি মারা গেলে।”

মারা যাওয়ার কথা শুনে জবাবে শারুন লিখেন, তুমি কিছু করলে বসুন্ধারা গ্রুপ শেষ হয়ে যাবে। আমার নামে নিউজ করাইতেছে কি বাল করতে পারছে? পিএম জানে শারুন কেমন। সো টাইম নাই। ইফতারের টাইম হয়ে যাচ্ছে। আমাকে টেলিগ্রামে নক দিও। ভালো থাকো।

সর্বশেষ মুনিয়া লাভ ইমোজি দিয়ে লিখেন , আপনি আসলে ফেরেশস্তা। কেনো যে আপনার মতো মানুষ আমি পাই নাই লাইফে।

তবে এসব স্ক্রিনশট সম্পূর্ণ ভুয়া বলে উড়িয়ে দেন হুইপপত্র নাজমুল হক শারুন। তিনি বলেন, মুনিয়া আত্মহত্যা ঘটনার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নাই। এই স্ক্রিনশটগুলো আমার নয়। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরীক্ষা—নিরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

এ বিষয়ে জানতে সায়েম সোবহান আনভীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, পরীক্ষা—নিরীক্ষার আগে এর সত্যতা সম্পর্কে বলা যাচ্ছে না।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

ট্যাগ :

close