বাংলাদেশ, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

হুইপপুত্রের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন সাবেক স্ত্রী মীম

প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২১

বাংলাধারা প্রতিবেদক :::

সম্প্রতি পরপর দুটি আত্মহত্যা প্ররোচনার নেপথ্য সম্পৃক্ততায় নাম উঠে আসে চট্টগ্রামের পটিয়ার সংসদ সদস্য ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর পুত্র নাজমুল হক চৌধুরী প্রকাশ শারুন চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

এমন সময়ে প্রাক্তন স্ত্রীর বিরুদ্ধেও শারুন অভিযোগের আঙুল তুললে তিনিও কড়া জবাব দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শারুনের সাবেক স্ত্রী দীর্ঘ ছয় বছর টানা নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত শারুনকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হয়। শারুনের মানসিক চাপে সাবেক স্ত্রী সাফিয়া রহমান মীমও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি শারুন ও মীমের একমাত্র শিশু সন্তানকে আটকে রাখা, মৃত্যু হুমকি এবং আত্মহত্যা করার মতো অবস্হা তৈরীর হুংকার দেয়া সহ ঠিক অবর্ণনীয় ঘটনা প্রবাহ তুলে ধরেন মীম।

শারুনের বিরুদ্ধে মীমের মুখ খোলার প্রথমেই মীম বলেন, ‘কথাগুলো এভাবে বলতে চাইনি। ভেবেছিলাম এই সময়টাতে নিশ্চুপ থাকবো। কিন্তু আর চুপ থাকতে পারছি না’ ।

মীম বলেন, ‘আমারও আত্মহত্যার উপক্রম হয়েছিল। দিনের পর দিন এমনভাবে শারুণ আমাকে নির্যাতন করেছে, আমিও আত্মহত্যা করতে পারতাম। শুধু আমার সন্তানের কথা ভেবে সব সহ্য করেছি। শারুন সংবাদমাধ্যমকে আমার চরিত্র নিয়ে যে কথাগুলো বলেছে, তার সবই মিথ্যাচার।’

অন্যদিকে ব্যাংকার আকতার মোর্শেদ চৌধুরীর আত্মহত্যা প্ররোচনায় জড়িত অভিযুক্তদের সহযোগী হিসেবে শারুনের নাম উল্লেখ করেন ওই ব্যাংকারের স্ত্রী।

একাধিক সংবাদ সম্মেলন ও গণমাধ্যমকে প্রদত্ত বক্তব্যে ব্যাংকারের স্ত্রী শিক্ষিকা ইশরাত জাহান চৌধুরী তাঁর স্বামীকে আত্মহত্যা প্ররোচনায় মানসিক নির্যাতন, হুমকি প্রয়োগসহ নানাভাবে পরিস্থিতি তৈরি করার পেছনে হুইপ পুত্রের সম্পৃক্ততার তথ্য তুলে ধরেন।

গুলশান দুই নম্বর এভিনিউয়ের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর প্লটের বি/৩ ফ্ল্যাটে একা থাকতেন কলেজছাত্রী মুনিয়া। চলতি বছরের মার্চ মাসে এক লাখ টাকা মাসিক ভাড়ায় তিনি ওই ফ্ল্যাটে ওঠেন। সোমবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ওই বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। এই হত্যা প্ররোচনায় প্রথমে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর এর নাম উঠে আসলেও হুইপ পুত্রের সম্পৃক্ততা নিয়ে নেট দুনিয়া ও সংবা মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে দেশব্যাপী।

জানা যায়, ২০১৩ এর ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেয়ে মীমের সাথে চট্টগ্রামের ছেলে শারুনের বিয়ে হয়। এর পরের বছর ২০১৪ এর ২৪ জুন তাদের একমাত্র সন্তান, কন্যা সাইশা করিম চৌধুরীর জন্ম। শারুন ও মীম মূলত ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। কিন্তু বিয়ের আগে মীম জানতেন না, শারুন এতোটাই বদরাগী।

আরও জানা যায়, মীম আগেও সামাজিক মাধ্যমে তার ওপর ঘটে যাওয়া নির্মম নির্যাতনের ঘটনা ছবিসহ তুলে ধরেছিলেন এবং তার কাছ থেকে একমাত্র শিশুকন্যাকে কেড়ে নিয়ে যাওয়ার হৃদয়বিদারক ঘটনার বর্ণনা দেন ।

মূলত কলেজ শিক্ষার্থী মোসারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্বারের পর তার সাথে শারুনের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এর স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়।

ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশট।

যদিও এসব স্ক্রিনশট সম্পূর্ণ ভুয়া বলে উড়িয়ে দেন হুইপপত্র নাজমুল হক শারুন। তিনি বলেন, মুনিয়া আত্মহত্যা ঘটনার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নাই। এই স্ক্রিনশটগুলো আমার নয়। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরীক্ষা—নিরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি টিম এ বিষয়ে জানতে শারুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

শারুন এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, সূত্রের জানতে চাওয়া বিষয়গুলো তিনি জানিয়েছেন। তবে কে তাঁকে ফোন করেছিলেন, সে ব্যাপারে হুইপপুত্র কিছু বলতে চাননি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শারুনের প্রাক্তন স্ত্রী মীম জানান, শারুন-মুনিয়ার সেই চ্যাট এ আমার চরিত্র নিয়ে শারুনের মন্তব্য আমি দেখেছি, তাতে আমি আমি বিস্মিত হইনি। কারণ তার আচরণেই তার রুচিবোধ সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা হয়েছে। ‌

মীম আরও যোগ করেন বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে পারি, আমার চরিত্র যদি খারাপ হতো, তাহলে তাকে (শারুনকে) অনেক আগেই ছেড়ে চলে আসতাম। এত নির্যাতন সহ্য করেও ওই সংসার টিকিয়ে রাখতে চাইতাম না। বিয়ের পর থেকেই টানা ৬ বছর আমি নির্যাতনের শিকার হয়েছি।’

মীম আরও জানান, ‘শারুন সংবাদমাধ্যমকে আমার চরিত্র নিয়ে ডাহা মিথ্যা কথা বলছেন। সে আমাকে নির্যাতন করছিল মা-বাবার সামনেই। আমার প্রতি নির্যাতনের কথা ওই বাড়ির আত্মীয়-স্বজন প্রায় সবাই জানতেন। পটিয়ায় ওদের গ্রামের বাড়ির সবাই সবাই জেনেছিলেন।’

‘শেষ যেবার ওই গ্রামের বাড়িতে আমি কোরবানির ঈদ করি, তার ঠিক আগেই শারুন মেরে আমার মুখ থেঁতলে দিয়েছিল। আমি সেই অবস্থাতেই ঢাকার বাসা থেকে গ্রামের বাড়ি যায়। আশেপাশের প্রতিবেশীরা তখন জিজ্ঞেস করেছিলেন আমার মুখের এ অবস্থা কেন? আমি তাদের পরিষ্কার করে জানিয়ে দিই যে, আপনারা শারুন থেকে জিজ্ঞেস করেন।’

মীম বলেন, ‘ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। বুঝিনি শারুন এত বদরাগী।‌ তার ভয়াবহ নির্যাতনের অনেক তথ্য প্রমাণ আমার কাছে আছে । সময় হলেই সব প্রকাশ করব।‘

মীম বিস্মিত হয়ে বলেন, ‘ গত প্রায় একবছর আমার মেয়ের সাথে কোন যোগাযোগ করতে না দিলেও কলেজ শিক্ষার্থী মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনার পরে চ্যাট এর স্ক্রিনশট ভাইরাল হলে আকস্মিকভাবে আমাকে একটু করে কথা বলতে দেয় শারুণ। এতে খানিকটা বিস্মিত হয়েছি। ‌তবে কথা বলে বুঝলাম, আমার বাচ্চাকে ওরা দিনের পর দিন ভুল বুঝিয়েছে। আমার বেবিটা কিছু বলার আগেই পাশ থেকে শারুণ কথা না বাড়াতে আটকে দিচ্ছে।’

শারুনের সাবেক স্ত্রী মীম সঙ্গত কারণে ধারণা করে, ‘এর পেছনে কোনো বড় ধরণের চক্রান্ত আছে’।

বিস্তারিত জানতে বাংলাধারার পক্ষ থেকে হুইপপুত্র শারুনের সাথে যোগাযোগ করলে শারুন পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

ট্যাগ :

close