বাংলাদেশ, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ভারতের একটি স্কুল থেকেই মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি ও মাস্টারকার্ডের সিইও

প্রকাশ: সোমবার, ৩ মে, ২০২১

বাংলাধারা ডেস্ক »

ভারতের সেরা স্কুলগুলোর একটি হায়দরাবাদ পাবলিক স্কুল। সাবেক শিক্ষার্থীদের তালিকা দেখলে বিশ্বসেরাও বলা যেতে পারে। বিশ্বের অনেক নামীদামি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী তৈরি করেছে হায়দরাবাদের বেগমপেটের স্কুলটি। এর মধ্যে রয়েছেন মাইক্রোসফটের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সত্য নাদেলা। আছেন অ্যাডোবির সিইও শান্তনু নারায়ণ এবং মাস্টারকার্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান অজয়পাল সিং বাঙ্গা (গত বছর পর্যন্ত সিইও ছিলেন)।

মার্কিন সাংবাদিক স্টিফেন ডাবনারের সঙ্গে ২০১৮ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খোদ সত্য নাদেলা ওই তথ্য দেন। এরপর বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো লেগে যায় স্কুলটির খোঁজে। একের পর এক সংবাদ প্রকাশ হতে থাকে।

সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির খবরে বলা হয়েছে, ডাবনারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের শুরুতে নারায়ণ এবং বাঙ্গার সঙ্গে একই স্কুলে পড়ার ব্যাপারটিকে কেবলই কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন নাদেলা। তবে ডাবনারও ঘাঘু সাংবাদিক। তিনি কি আর সহজে ছাড়েন। নাদেলাদের জীবনে জন্মভূমি ভারত কিংবা হায়দরাবাদের স্কুলটির অবদান জানতে চান। অবশেষে স্বীকার করেন মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। বলেন, ‘সে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার নির্দিষ্ট কাঠামো থেকে আমি উপকৃত হয়েছি বলেই আমার বিশ্বাস।’

প্রশ্ন হলো, হায়দরাবাদের একটি স্কুল কীভাবে বিশ্বখ্যাত এতগুলো প্রতিষ্ঠানের প্রধান তৈরি করল?

হায়দরাবাদ পাবলিক স্কুল

শিক্ষা কেবল শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়


নিজের জীবনে হায়দরাবাদ পাবলিক স্কুলের (এইচপিএস) অবদান স্বীকার করে নাদেলা বলেন, ‘স্কুলটির সেরা দিকগুলোর একটি হলো, নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষের বাইরে নানা ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায় শিক্ষার্থীরা।’

নাদেলা মনে করেন, এইচপিএস শিক্ষার্থীদের জীবন গঠনে কিছুটা ভিন্নভাবে অবদান রাখে। তিনি বলেন, ‘শান্তনু বিতার্কিক ছিল, আমি ছিলাম ক্রিকেটার এবং আমরা সবাই সেখানে নানা বিষয়ে শিক্ষা পেয়েছি।’

জরিপে দেখা গেছে, যে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়, তারা সাধারণ পরীক্ষায়ও ভালো নম্বর পেয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর এডুকেশন স্ট্যাটিসটিকসের গবেষণায় পাওয়া যায়, সহশিক্ষা কার্যক্রমের আয়োজন শিক্ষার্থীদের পাসের হারও বাড়ায়। এইচপিএসে অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে পর্বতারোহণ এবং ঘোড়দৌড়ের আয়োজনও থাকে।

এইচপিএসের সাবেক প্রিন্সিপাল রমণদ্বীপ কাউর শর্মা সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনোমিক টাইমসকে বলেছেন, ‘এইচপিএস সেনাপতি তৈরি করে, পদাতিক সৈনিক নয়। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিক। সেটা যে ক্ষেত্রে তাদের ইচ্ছা। ছোট হোক কিংবা বড়, তবে মনপ্রাণ দিয়ে।’

ইতিবাচক হতে শেখায়


এইচপিএস তাঁকে এবং তাঁর সহপাঠীদের চিন্তাশক্তি বড় করতে শিখিয়েছে বলে মনে করেন নাদেলা, ‘সবকিছুর ঊর্ধ্বে এটা আমাদের চিন্তা, শিক্ষা এবং বড় স্বপ্ন দেখার স্বাধীনতা দিয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিন একবার ৭ থেকে ১০ বছর বয়সী ২৪০ জন শিশুর ওপর জরিপ চালিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, ইতিবাচক থাকলে শিশুরা গাণিতিক সমস্যার সমাধান দিতে পারে বেশি, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ে।

দ্য ইকোনমিক টাইমসকে স্কুলটির এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘স্কুলে পড়ার শুরুর দিকে আমি বেশ লাজুক এবং অন্তর্মুখী ছিলাম, এইচপিএস আমার মধ্যে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।’
২০১৭ সালে নিজের স্কুলে যান নাদেলা। সে সময় তিনি বলেছিলেন, স্কুলটিতে পড়া তাঁর জীবনের অন্যতম অংশ। তা ছাড়া, স্ত্রী অনুপমা নাদেলার সঙ্গেও হায়দরাবাদ পাবলিক স্কুলেই প্রথম দেখা হয় তাঁর।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

ট্যাগ :

close