বাংলাদেশ, ৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বিবি’র কড়া নজরদারীতে ঋণ গ্রহীতা মুশকিলে

প্রকাশ: বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০২১

মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক »

দেশের সিডিউল ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট ও ডিপোজিট পেনশন স্কিমের বিপরীতে ঋণ দেয়ার নিয়ম রয়েছে। করোনাকালীন সময়ে এ ধরনের গ্রহীতারা ঋণ খেলাপী হওয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। এখন প্রতি দুইমাস অন্তর অন্তর সিআইবি রিপোর্ট জমা দিতে হয় সিডিউল ব্যাংক গুলোকে।

এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) ঋণ নিয়ন্ত্রণ কৌশল অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সিডিউল ব্যাংকের প্রধান ও শাখার বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পর্যবেক্ষণে ধারা পড়েছে ঋণ খেলাপীদের নাম। ফলে ডিপিএস ও স্থায়ী জামানতের বিপরীতে ঋণ গ্রহীতারা মুশকিলে পড়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সিডিউল ব্যাংকের উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের চাপাচাপির কারণে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতারা বেকায়দায় পড়েছে। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রকারী সংস্থা হিসেবে সিডিউল ব্যাংক গুলোর উপর বেশকিছু নির্দেশনা দিয়ে কয়েকমাস আগে চিঠি পাঠিয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে সিডিউল ব্যাংক গ্রাহকদের কাছ থেকে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) রিপোর্টের জন্য অনলাইন তদন্ত ফরম পূরণ করতে হচ্ছে। এ ফরমে গ্রাহকের যেমন স্বাক্ষর নেয়া হচ্ছে তেমনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যাংক ম্যানেজারের স্বাক্ষরও রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতারা সিডিউল ব্যাংকে জমাকৃত ডিপোজিট পেনশন স্কিম(ডিপিএস) ও ফিক্সড ডিপোজিটের (এফডিআর) উপর ঋণ গ্রহণ করে। যা জমাকৃত অর্থের শতকরা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ। এই ঋণের সুদ ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত সুদের চেয়েও ২৫ ভাগ বেশী। কিন্তু এরপরও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা জামানতের অর্থ থেকে ঋণ নিয়ে নিজেদের ব্যবসা জিঁইয়ে রাখতে চান। কিন্তু এই ধরনের ঋণের উপর বাংলাদেশ ব্যাংক কড়া নজর রাখতে শুরু করেছে। এরই জের ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছরের আগষ্ট মাসের শেষ সপ্তাহে সিডিউল ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে ডিপোজিটের বিপরীতে ঋণ গ্রহীতাদের তথ্য জানতে। এমনকি প্রতি দুইমাস অন্তর ঋণ গ্রহণের পূর্বে ঋণ গ্রহীতাদের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে জানাতে।

আরো অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের স্থায়ী জমার উপর সিডিউল ব্যাংকগুলো যে ঋণ প্রদান করে তা অনেক ব্যয়বহুল। কারন প্রাপ্য সুদের চেয়ে ঋণ গ্রহিতার প্রদেয় সুদের পরিমান অনেক বেশী। ফলে ব্যবসা বেকায়দায় পড়লে ঋণ খেলাপী হতে পারে।

এদিকে, স্থায়ী সঞ্চয়ের উপর সিঙ্গেল ডিজিট সুদ প্রদান করলেও ঋণ গ্রহীতা ঋণ পরিশোধের সময় প্রাপ্য সুদের চেয়ে শতকরা ২৫ ভাগেরও বেশী অতিরিক্ত সুদ প্রদান করতে হয়। অর্থাৎ সিডিউল ব্যাংক জমার বিপরীতে সর্বোচ্চ শতকরা ৯ ভাগ সুদ দিলেও ঋণের বিপরীতে অতিরিক্ত ২৫ ভাগ সুদসহ প্রায় শতকরা ১২ ভাগ সুদ আদায় করে। ফলে সরকারের সিঙ্গেল ডিজিট আর কার্যকর থাকছে না।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণ সেল সুত্রে জানা গেছে, ব্যাংক কোম্পানী আইন ১৯৯১ এর ২৭ এর ‘কক’ ধারা মতে খেলাপী ঋণ গ্রহীতার তালিকা প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ ব্যাংকে জানাতে হবে। প্রত্যেক ব্যাংক, কোম্পানী বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিছুদিন পর পর তাদের খেলাপী ঋণ গ্রহীতাদের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণ করবে। কোন খেলাপী ঋণ গ্রহীতার পক্ষে কোন ব্যাংক, কোম্পানী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোন ধরনের ঋণ প্রদান করবে না।

শুধু তাই নয়, এ বিষয়ে ব্যাংক কোম্পানী আইনের অন্য কোন ধারায় কোন কিছু বলা থাকলেও তা গ্রহনযোগ্য নয়। এক্ষেত্রে খেলাপী ঋণ গ্রহীতার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। খেলাপী ঋণ গ্রহীতার বিরুদ্ধে ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক, কোম্পানী বা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋন খেলাপীর দায়ে ওই ঋণ গ্রহীতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হবে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বাংলাধারাকে জানান, ডিপোজিটের বিপরীতে ঋণ গ্রহনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রিয় ব্যাংক প্রত্যেক সিডিউল ব্যাংকে ১৯৭২ সাল থেকেই কড়া নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে। কোন ভাবেই ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) রিপোর্ট ব্যতিত ঋণ প্রদান করা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, ব্যাংক কোম্পানী আইনের ভেতরে থেকেই সিডিউল ব্যাংক ঋণ প্রদান করতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান। ফলে সিডিউল ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রন করা না গেলে ঋণ খেলাপীর পরিমান অনেক বেশী হবে। চলতি অর্থ বছরেও সরকার চার শতাধিক ঋণ খেলাপীর নাম ঘোষনা করেছে।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

ট্যাগ :

close