বাংলাদেশ, ৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আধুনিকতার আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশঝাড়

প্রকাশ: বুধবার, ১১ আগস্ট, ২০২১

ফরহাদুজ্জামান, নাটোর থেকে »

দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত বাঁশের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাঁশ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা। সম্মিলিত প্রচেষ্টার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশের ব্যবহার। একসময় চারপাশে পর্যাপ্ত বাঁশের ঝাড় দেখা গেলেও বর্তমানে তা বিলুপ্তির পথে।

বাড়িঘর’সহ বিভিন্ন কাজে এখন বাঁশের বদলে লোহার তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করার ফলে কমেছে বাঁশের চাহিদা। একটা সময় ছিল যখন কৃষক তার ফসলের ক্ষেতে বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়ে ফসল রক্ষার জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতো, সেখানে এখন ধাতব তার টেনে বেড়া দেয়া হচ্ছে।

আদিকাল থেকে বাঁশের ব্যপক ব্যবহারের ইতিহাস জানা থাকলেও বর্তমানে তা একেবারে দুর্লভ। রড সিমেন্টের ব্যপক ব্যবহারে বাঁশের প্রতি অনেকটা অনীহা প্রকাশ পেয়েছে। তাছাড়া বাঁশের তৈরি শিল্পের তেমন একটা চাহিদা না থাকাটাও একটা বড় কারণ। ভিটেমাটি উজাড় করে নতুন নতুন বসতিস্থাপনও বাঁশঝাড় ধ্বংসের অনেক বড় একটা কারন। ব্যবসায়ীক চিন্তায় অনীহা ও বনবিভাগের নীরবতার কারনেও নষ্ট হচ্ছে শীতল ছাঁয়ার পরিবেশ। পাশাপাশি মেলামাইন ও প্লাষ্টিকের ব্যবহার অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় বাঁশ শিল্প হারাচ্ছে তার নিজস্ব ঐতিহ্য। বাঁশের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীও আজ হুমকির মুখে। আগের মত পর্যাপ্ত বাঁশ না থাকায় দিনদিন তারা বেকার হয়ে পড়ছে।

নলডাঙ্গা উপজেলার চেঁউখালি গ্রামের মেহের সরদারের ছেলে মশিউর রহমান নান্টু বলেন, ‘বাপদাদার আমল থেকে আমাদের একটা বড় বাঁশঝাড় থাকলেও পরিচর্যা ও দেখভালের অভাবে বর্তমানে তা বিলুপ্তির পথে।’

নলডাঙ্গা উপজেলার সড়কুতিয়া গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে মিনহাজ বলেন, ‘আমার জন্মের পর থেকে আমাদের একটা বাঁশঝাড় থাকলেও পরিকল্পনা ও পরিচর্যার অভাবে এখন প্রায় শেষের পথে।’

বাঁশের ব্যপক ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে নলডাঙ্গা শহীদ নজমুল হক সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মামুনুর রশীদ তোতা বলেন, ‘মানুষের মৃত্যুর পরে কবরে যেমন বাঁশের প্রয়োজন, ঠিক বেঁচে থাকা অবস্থায় বাঁশের প্রয়োজন আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাঁশের তৈরি হস্তশিল্প দেখতে যেমন সুন্দর, ঠিক তেমনি তা একদুম জীবাণুমুক্ত।’

বিষয়টি নিয়ে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফৌজিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘সরকারের তরফ থেকে বাঁশ রক্ষায় কোন নির্দেশনা নেই, তবে পরিবেশ রক্ষায় বাঁশের ভূমিকার কথা তিনি স্বীকার করেন।’

এ বিষয়ে নাটোরের বন বিভাগের কর্মকর্তা সত্তনদনাথ দত্ত বলেন, ‘বাঁশের চাহিদা কমে যাওয়ার কারনেই বাঁশঝাড় আজ বিলুপ্তির পথে। তবে শীতল ছাঁয়া ও পরিবেশের ভারসম্য রক্ষায় বাঁশের ভূমিকা অপরিসীম।’

বাংলাধারা/এফএস/এআই

close