বাংলাদেশ, ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মামলা

প্রকাশ: বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে দুবাই প্রবাসী স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধু।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম শফি উদ্দিনের আদালতে সফিউল আলম নামে ওই ব্যক্তির নামে তিনি মামলা করেন।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চান্দগাঁও থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই গৃহবধূর আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার খিলমোগল খামারিপাড়া হোসনাবাদ এলাকার কাজী সফিউল আলমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় একই উপজেলার উত্তর পদুয়া পশ্চিম খুরুশিয়ার সাজু আক্তারের। বিয়ের কিছু দিন পরেই জানা যায় স্বামী পাশের গ্রামের এক নারীর প্রেমে আসক্ত। বিয়ের একমাস পরে বিদেশ পাড়ি দেন স্বামী সফিউল আলম। বিদেশ থেকে আসা-যাওয়ার মাঝে ওই গৃহবধূ সন্তান সম্ভবা হয়ে পড়লে সফিউল আলমের পরামর্শে মা নুর আয়েশা এবং বোন তাসলিমা ও পারভিন মিলে চন্দ্রঘোনায় ডা. পাপড়ি দাশের কাছে নিয়ে যান। সেখানে গিয়েই ডাক্তারকে গর্ভপাত করানোর ওষুধ দেওয়ার কথা বললে চিকিৎসক প্রথমে রাজি হননি। পরে পরিবারের লোকজন দায়িত্ব নিয়ে ডাক্তারের কাছ থেকে ওষুধ এনে রাতে গৃহবধূ সাজুকে একটি ওষুধ খাওয়ালে তার শরীর খারাপ লাগতে শুরু করে। পরদিন থেকে বমি ও রক্তক্ষরণ শুরু হলে আবারো নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসকের কাছে। চিকিৎসক দ্রুত ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য বললেও পরিবারের লোকজন তাকে বাড়ি নিয়ে আসে। অসুস্থ্ অবস্থাতেই জ্বরের ওষুধের কথা বলে আবারো সাজু আক্তারকে ভ্রুন হত্যার ওষুধ খাওয়ানো হয়। এভাবে তার প্রথম সন্তান পৃথিবীর আলো দেখা থেকে বঞ্চিত হয়। এখানেই শেষ নয়। বিষয়টি পরিবারের কাউকে না জানানোর জন্য চাপ দিতে থাকে সফিউল আলমের পরিবার। এভাবে বারে বারে ভ্রুন হত্যার ঘটনা ঘটায় সফিউলের পরিবারের লোকজন।

শ্বশুর বাড়ির লোকজনের নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে গৃহবধূ সাজু আক্তার ২০২০ সালের জুলাই মাসে তার বোনের বাসা বহদ্দারহাটের ফরিদার পাড়ায় চলে যায়। ইতোমধ্যে ২০২১ সালের ২৯ আগষ্ট সাজুর স্বামী সফিউল বিদেশ থেকে দেশে এসে সাজুর বোনের বাসায় এসে উঠে। সাজুকে আগের সব কিছু ভুলে গিয়ে আবারো নতুন করে সব শুরু করার জন্য বললে সব ভুলে নতুন করে সংসার শুরু করে। এক পর্যায়ে আবারো সন্তান সম্ভবা হয় সাজু। এবারও আগের মতোই সফিউল তার স্ত্রীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করে ফেলার কথা বললে সাজু আর তাতে রাজি হয়নি। এতেই বাধে বিপত্তি। সাজুর উপর নেমে আসে আবারো নির্যাতন। স্বামীর অত্যাচারে অসুস্থ্ হয়ে পড়া স্ত্রীকে তালাকের হুমকি দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। এরপর কোন কুল কিনারা না দেখে তিনি আইনের আশ্রয় নেন।

মামলা প্রসঙ্গে এডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, ভ্রুন হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ আমাদের সমাজে হরহামেশাই ঘটার কথা শোনা যায়। এ নিয়ে মাঝে মাঝে অভিযানও চলে ক্লিনিকগুলোতে। তাতে বন্ধ হয়নি ভ্রুন হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ। অপরাধীরা অপরাধ করেও বার বার পার পেয়ে যায়। তাই গুরুত্বপূর্ন বিষয়টি একজন ভুক্তভোগী নারীর মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতের নজরে আনা হয়েছে যেন এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আর কেউ ঘটাতে সাহস না পায়। আদালত মামলাটি চান্দগাঁও থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

বাংলাধারা/এআই

ট্যাগ :

close