বাংলাদেশ, ২৯শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ড. নীলিমা ইব্রাহিমের জন্ম শতবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

বিখ্যাত তিন নারী: বিনোদিনী, নন্দিনী ও কুমুদিনী

প্রকাশ: সোমবার, ১১ অক্টোবর, ২০২১

ড. নাজনীন বেগম»

১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর জন্ম নেয়া সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব ড. নীলিমা ইব্রাহিম শততম জন্মবর্ষের সুবর্ণ দ্বারে। বর্ণাঢ্য জীবনের ঘটনা পরম্পরার আলোকিত জগত সমৃদ্ধই নয় তার চেয়েও বেশি বাংলা ও বাঙালীর এক অকৃত্রিম মনন শৌর্য। পরাধীন ভারতের হরেক রকম বিপর্যয়ের টানাপোড়েনে অতি বাল্যকাল থেকে স্বাধীন মনোবৃত্তিতে স্বদেশ প্রেমের চেতনা উপ্ত হয়। পাশাপাশি ছিল পারিবারিক আবহের এক অবারিত রাজনৈতিক সচেতনতায় নিজেকে ঋদ্ধ করার অনুপম সুযোগ। তীক্ষè মেধাবী, মনন ও সৃজন দ্যোতনায় অভাবনীয় প্রতীক্ষা এই বিজ্ঞসাহিত্যিক বোদ্ধাকে যে মাত্রায় নিয়ে যায় সেখানে তিনিই তার নিজের তুলনা। কৃতী শিক্ষার্থী নীলিমা রায় বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের পর্বটি পার করেছেন মেধার অবর্ণনীয় স্ফুরণে। তৎকালীন অভিজাত ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউটশনে ভর্তি হওয়া সে সময়ের এক অবিস্মরণীয় পর্ব। ১৪ বছর বয়সে প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে ৪টা বিষয়ে লেটার পেয়ে এই মেধাবী ছাত্রী এমন একটি সমৃদ্ধ কলেজে প্রবেশের অধিকার অর্জন করেন। সেই শুরু পরের বৈচিত্র্যিক ঘটনায় নানা দোলাচলেও শেষ অবধি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিভাগে প্রথম হওয়া এই অনুকরণীয় শিক্ষার্থীকে ১৯৪৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী পেতে অন্য কোনদিকে তাকাতে হয়নি। এরই মধ্যে ঘটে যায় জীবনের আর এক ঘটনার পালাক্রম। ১৯৪৫ সালে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর চিকিৎসক ডাঃ মোঃ ইব্রাহিমের সঙ্গে পরিণয় সূত্রে এক হয়ে যাওয়া। পারিবারিক পরিবেশে স্বামীর সঙ্গে আলাপ, ঘনিষ্ঠতা পরবর্তীতে চিরসাথী হওয়া। পিতা প্রফুল্ল কুমার রায় চৌধুরীর অত্যন্ত স্নেহভাজন ছিলেন এই উদীয়মান চিকিৎসক। অবাক বিস্ময়ে নীলিমা প্রত্যক্ষ করলেন বাবা ইব্রাহিমকে আশীর্বাদ করছেন আর প্রিয়তম কন্যার দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। সেই বিস্ময় তার শেষ পর্যন্ত কাটেনি। সময়টা ছিল অবিভক্ত ভারতের রাজনৈতিক উন্মত্ততার এক অসহনীয় প্রতিবেশ। ’৪৭-এর দেশ বিভাগের দুর্যোগ পোহাতে অনেককেই দেশান্তর হতে হয়েছিল। সেভাবে ১৯৪৬ সালে স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় বসতি স্থাপন করা জীবনের এক অনিবার্য গতি। স্বামীর কর্মক্ষেত্র ঢাকার সামরিক হাসপাতাল। পরবর্তী দশ বছরের জীবনে চলে নানা উত্থান-পতন। তারই শেষ গন্তব্যে ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়া এই কৃতী শিক্ষক ১৯৫৯ সালেই প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে খ্যাত এই প্রতিষ্ঠান থেকেই পিএইচডির অভিসন্দর্ভ ‘সামাজিক ও রাজনৈতিক পটভূমিকায় ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার নাটক’ জমা দেন। এই অভাবনীয় উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন নিজের যেমন বিশেষ প্রাপ্তি একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরও এক অনন্য যাত্রা। বাংলা বিভাগে পিএইচডি ডিগ্রী প্রদান এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁকে দিয়েই শুভ সূচনা হয়। এর আগে ১৯৪৫ সালে কলকাতায় তিনিই প্রথম মহিলা যিনি বিহারিলাল মিত্রের গবেষণা বৃত্তি অর্জনের কৃতিত্বের অধিকারী। এভাবে অবিভক্ত বাংলা কতভাবেই না তিনি প্রথম কিছুর জন্য ইতিহাসের অংশীদার হয়েছেন। ১৯৭৪ থেকে ’৭৫ পর্যন্ত  বাংলা একাডেমির প্রথম মহিলা মহাপরিচালকের দায়িত্ব পাওয়াই শুধু নয় অবৈতনিকভাবে কর্তব্য পালন সেও এক অবিস্মরণীয় নজির। প্রাবন্ধিক, গবেষক ও  নিবেদত শিক্ষক ড. নীলিমা ইব্রাহিমের জীবনের এসব স্বর্ণ অধ্যায় আলোচনা ছাড়া তাঁকে যথার্থ আসনে অভিষিক্ত করা একেবারেই অসম্ভব।

নিজের স্মৃতি চারণে আছে কিভাবে শরৎ সাহিত্যের অনুরাগী হওয়া পারিবারিক সাংস্কৃতিক পরিমÐলে। কিশোরী নীলিমা শরৎ, মধুসূদন, রবীন্দ্র, নজরুলÑ সবই শুধু আয়ত্বই করেননি তার চেয়েও বেশি তাঁদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে সমৃদ্ধ উপস্থাপনাও এক অবিস্মরণীয় মনন শৌর্য। স্বল্প পরিসরে তাঁর সম্প্রসারিত আলোকিত ভুবনকে তুলে না ধরতে পারলেও সেই দ্যুতির বিকরণে আমরা সবাই নিয়তই চলার পথ খুঁজে পাচ্ছি। রবীন্দ্র ভক্ত, অনুরাগী একজন সাধারণ মানুষ কোন রবীন্দ্র বোদ্ধার আলোচনায় নিমগ্ন থাকবে সেটাই স্বাভাবিক।

রবীন্দ্র সৃজন মাহাত্ম্যের তিন বিশিষ্ট্য নারী নীলিমা ইব্রাহিমকে দারুণভাবে আগ্রহান্বিত এবং মনোসংযোগ করিয়ে নেয়। তারা বিনোদিনী, নন্দিনী ও কুমুদিনী। রবীন্দ্র সাহিত্যই শুধু নয় পুরো বাংলা সাহিত্যে ‘চোখের বালি’র আবেদন সে সময়ের এক বড় মাপের সৃজন কল্প। যদিও এই যুগোত্তীর্ণ, কালজয়ী প্রতিভাদীপ্ত সৃজন ও মননশিল্পী প্রতিনিয়তই নিজেকে নিয়ে অতিক্রম করেছেন তেমন শিল্পালঙ্কার তো রবীন্দ্র রচনা সম্ভারে উদ্দীপ্ত হয়ে আছে। তবে চোখের বালির সাহিত্যিক মূল্যে বিনোদিনীর চরিত্র চিত্রন এক অসাদারণ সৃজন মহিমা। নীলিমা ইব্রাহিও তেমন ভাব চৈতন্যে নিজেকে সমর্পণ করে শুধু বিনোদিনীই নয় রবীন্দ্র মানসে নারীর রূপসম্ভারকে হৃতয় নিঃসৃত ভাব কল্পনায় বিধৃত করেছেন। অনেকের মতে আলোচক ও রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস বলয়ে বঙ্কিমী আবহকে শুরুতেই বলতে দ্বিধা করেননি। তাঁর উক্তিই আনা যাক-‘এ চরিত্রে বঙ্কিমী-সৌরভ আছে তবুও রোহিনী হৃদয়ের অস্ফুটন কমল কলি এখানে সহস্র দলে প্রস্ফুটিত।’ রবীন্দ্রনাথ নিজেই চোখের বালির ভূমিকায় মাত্র ১১ বছর বয়সে ‘বিষবৃক্ষের রস সম্ভোগের কথা উল্লেখ করতে ভোলেননি। আর লেখিকা আরও এক ধাপ এগিয়ে ‘কৃষ্ণকান্তর উইলের রোহিনী চরিত্রকেও প্রভাবক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। আলোচকের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বলা যায় রবীন্দ্রনাথের বেশ কিছু সময় লেগেছে নিজের সাহিত্যিক বলয়ে বঙ্কিমী প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে। ঘটনাবহুল ও আকর্ষণীয় বিনোদিনীর প্রতি পাঠকের সচেতন দৃষ্টি নিবন্ধতা সে সময়ের এক অনন্য নান্দনিক অনুভব। আজও কি তার ব্যতিক্রম? সেই বাল্য বিয়ে পরিণতিতে অকাল বৈধব্য। যা উনিশ শতকীয় নবজাগরণের এক আবশ্যিক আন্দোলনে মোড় নিয়েছিল। যার প্রাণপুরুষ ছিলেন ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর। বিষবৃক্ষে বঙ্কিমচন্দ্র এই পÐিত, জ্ঞান তাপসকে আক্রমণও করেছেন। জীবদ্দশায় রবীন্দ্রনাথ কখনই তা করেননি। শুধু তাই নয় চেতনায় সর্বক্ষণিক পূজনীয় এই মানবিক ও আধুনিক মানুষটির ছায়া সৃজন দ্যোতনায় খুব বেশি পড়েওনি। নীলিমা ইব্রাহিম বৈধব্যের যন্ত্রণায় মনোজাগতিক অনুভবকে বিনোদিনীর চেতনায় বিকশিত হওয়াকে স্বাভাবিক মনে করেও গৃহদাহের আগুন জ্বালানো বহ্নিশিখাকে বিভিন্নভাবে প্রশ্নবিদ্ধও করেছেন। বিনোদিনীর ভাগ্যনিয়ন্তা কি সমাজ না তার স্রষ্টা এমন আবেদনও লেখকের চেতানকে তাড়িত করেছে। চোখের বালি লেখার সময় কবির বয়স প্রায়ই ৪০-এর কাছাকাছি। কিন্তু নীলিমা ইব্রাহিম প্রত্যক্ষ করছেন- ঔপন্যাসিকের প্রথম জীবনের আবেগ যতখানি চরিত্রকে প্রভাবিত করেছে সুস্থির বিশ্লেষণের যৌক্তিক অনুভব তেমন করে পাঠককে নাড়া দেয়নি। স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় আহত বিনোদিনী তার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় প্রায়ই অসম আশাকে যখন নানারূপে সজ্জিত করে দিচ্ছে তাও ঘটনার পালাক্রমকে ঠিকভাবে তুলে ধরছে না। কারণ কাহিনীর গতি নির্ণয়ে বিনোদিনীর হৃদয়ে কোন এক সময় বিহারিলালের অভিষেক তার চেয়েও বেশি মহেন্দ্রের প্রতি উন্মত্ত উন্মাদনা এই আকর্ষণীয় চরিত্রের যে অসঙ্গত প্রকাশ তাও নীলিমা ইব্রাহিমকে যৌক্তিক ভাবচেতনায় ঘটনার যথার্থ বিশ্লেষণে পারদর্শী করে তোলে। একদিকে উত্তাল বহ্নিশিখা আবার একই অঙ্গে প্রেম ও ভালবাসার সম্মোহনী আকর্ষণ সবই যেন মূল স্রষ্টাকে বিচলিত করে দেয়। বালিকাবধূ আশার প্রতিও এই বিজ্ঞ আলোকের সচেতন দায়বদ্ধতা লক্ষণীয়। উদ্ধৃত অভিমানি বিনোদিনীর রোষানলে পড়া এই নাজুক আশালতাও প্রবন্ধের রূপকারকে বিচলিত করেছে। সবশেষে বিনোদিনীর শেষ গন্তব্য নির্ধারণকে প্রবন্ধকার সমাজ-সংস্কারের আদলে যে যবনিকা তাতে স্রষ্টার তৃপ্তি কোথায় এমন প্রশ্নও এসে যায়। বিধবা বিয়ে যদি প্রথাসিদ্ধ সংস্কার হয় যা রবীন্দ্রনাথকে সনাতনী ধারায় নিয়ে যায় পরবর্তীতে চতুরঙ্গের দামিনী কিংবা নিষ্কৃতির মঞ্জুলিকার মতো বিধবাদের নতুন সংসারের গ্রন্থি বেঁধে দেয়া সেই বা কি করে সম্ভব হলো? কয়েক বছরের  ফারাকে পুরো সমাজ তো ওলট পালট হয়ে যায়নি। তবে এই দুটো চরিত্রে কবি নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন যা অন্যের প্রশংসার জন্য নয় কবির ভেতরের অন্যতম বোধ আর দায়বদ্ধতায়। রবীন্দ্রনাথের সৃজন আলোকে বিনোদিনীকে প্রথম কন্যা বিবেচনায় এনে প্রবন্ধকার ‘রক্ত করবী’র নন্দিনীকে দ্বিতীয় হিসেবে আলোচনায় এনেছেন। মূল কারণ প্রকাশের কাল। ‘রক্ত করবী’র মতো নাটক যা কি না পুঁজিবাদী শোষণের আগ্রাসন আর যন্ত্র দানবের কাছে নিঃশর্ত বলি অসহায় শ্রমিকদের বন্দী জীবন। কিন্তু শান্তি আর শুভ্রতার প্রতীক নন্দিনীর যাত্রা সংঘাত কিংবা দ্ব›েদ্ব নয় বরং সর্ববিধ মুক্তির ত্রাতার ভূমিকায় এক নারী শক্তির চিরস্থায়ী প্রতিনিধিত্ব। আলোচকের মতে আলোকের ঝর্ণাধারার মতো নন্দিনী আনন্দ আর নিরন্তর স্রোতধারায় বয়ে যাওয়া এক সর্বমিলন সমুদ্র। আর এই সম্প্রসারিত দ্যুতিময় আঙিনা ফুলে-ফলে, শস্য সম্পদে আনন্দ-গানে বিভোরিত এক পথ চলা। ভালবাসার মহিমায় কোন সর্বংসহা রমণী যেন ধরিত্রীকে স্নেহেপ্রেমে মঙ্গলালোকে অনুক্ষণ আনন্দধারায় ভরিয়ে তুলছে। নন্দিনী এবং তার পারিপার্শ্বিক আবহে নিয়ে কবির যে সুচিন্তিত বোধ সেখানে কর্ষণজীবিরাই যে সভ্যতার নিয়ামক তেমন ধারণাও নন্দিনীকে প্রভাবিত করেছে বলে আলোচকের বিশ্বাস। যান্ত্রিক সভ্যতায় বিপর্যস্ত য²পুরির প্রয়োজন নন্দিনীর মতো পুষ্পালঙ্কারা ভূমিকন্যা যে কিনা স্বর্ণদানবদেরও নিজের শক্তি আর কর্ষণে জয় করে নিতে পারে। উন্মত্ত উন্মাদনায় পুরুষের ধনের ওপর যে আগ্রাসী মনোবৃত্তিতাকে থামাতে পারে একমাত্র নন্দিনীর মতো নারী শক্তির অকৃত্রিম পরশ। ধারণা করা অসঙ্গত নয় উদার, প্রজাহিতৈষী জমিদার আবেগপ্রবণ কবি যান্ত্রিক সভ্যতায় ধন-সম্পদের কুক্ষিগত করার ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি কখনই সেভাবে মানতে পারতেন না। যার আরও স্পষ্ট প্রভাব লক্ষণীয় যোগাযোগের উঠতি বণিক মধুসূদনের চরিত্র রূপায়ণে। নীলিমা ইব্রাহিমের সর্বশেষ আলোচনাও যোগাযোগের কুমুদিনীকে নিয়ে। লেখিকা শুরুতেই কুমুর সঙ্গে মধুসূদনের বিয়ের ব্যাপারটিকে দৈব শুভাদেশ বলে নায়িকার যে আকুতি সেই বোধ দিয়েই আলোচনারও শুভারম্ভ। ভাই বিপ্রদাস একজন ক্ষয়িষ্ণু জমিদার, সেখানেও কবির অকারণ পক্ষপাতিত্ব পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তবে কুমু যে দৈব আবহে বিয়ের সম্মতি দান থেকে তোড়জোড় শুরু করা ঘটনার গতি নির্ধারণের বিশেষ পর্যায়। নিজের ভেতরের অন্তর দেবতায় পূজা নিবেদনেই স্বামীর প্রতি তার ভক্তি-ভালবাসা দানা বাঁধতে থাকে। কিন্তু বিয়ের শুভমুহহূর্তে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় কাতর কুমুর নৈবদ্যের থালাও নড়ে উঠতে সময় লাগেনি। ভক্তি, বিশ্বাস আর অর্ঘ্যে পরম আরাধ্য স্বামী দেবতা কিন্তু প্রভু নয়। নতুন-পুরনোর এই সাংঘর্ষিক চেতনায় নায়িকার সঙ্গে তার স্রষ্টা ও বিচলিত। আলোচক অত্যন্ত সুসংবদ্ধ মননশক্তিতে নায়িকার আকাক্সিক্ষত স্বামীর জায়গায় যে জবর দখলী মনোভাব তেমন সঙ্কট নিয়ে ভেতরের বোধকে তোলপাড় করে দেয় সেখানে স্রষ্টাও সত্যিই বিচলিত। যে দৈব নির্দেশে স্বামীকে নিজের বলে মানতে চেয়েছে সেখানে স্বামীর অযাচিত কঠোর নির্দেশ আর হস্তক্ষেপ কবির অবাধ্য নায়িকার যে অসংহত দোলাচল তাকেও স্রষ্টা ধীর, স্থির, শান্ত আর স্নিগ্ধতার প্রলেপ দিতে কুণ্ঠিত হয়নি। এমন সব টানাপোড়েনে কুমুর মাতৃত্বের সম্ভাবনায় তেমন কোন দ্যুতি নির্দেশিত হয় না। কারণ যে অনমনীয় দৃঢ় প্রত্যয়ে কুমুর নিষ্ঠার ছবি আঁকেন রবীন্দ্রনাথ কুমু সেখানে শুধু নিজের সঙ্গেই নয় স্বামীর ব্যাপারেও কোন বোঝাপড়ায় আসতে চায়নি। তার পরেও ভাবী সন্তানের আগমনে সেই অনাকাক্সিক্ষত জবরদস্তিতেই কুমুর স্বামী গৃহে প্রত্যাবর্তন। এটা যেমন নায়িকার জন্য সুখকর ছিল না, স্রষ্টার নির্দেশিত পথও প্রচলিত সংস্কারে আবদ্ধ। সেই ভাবচৈতন্যেই কুমুর স্বামীর ঘরেই নিশ্চিত যাত্রা পথ।

ড. নাজনীন বেগম,

গবেষক-সাংবাদিক।

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

ট্যাগ :

close