বাংলাদেশ, ২৯শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রেললাইন ঘেঁষে অবৈধ স্থাপনা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১

মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক»

চট্টগ্রামে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপুর্ণ করে তুলছে অসাধু সিন্ডিকেট। প্রকৌশল বিভাগের চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার কারনে প্রভাবশালী চক্র ঝুঁকিপুর্ণ করে তুলছে ট্রেন চলাচল। এদিকে, প্রধান ও বিভাগীয় ভূমি অফিস অভিযান পরিচালনা করলেও ভূমি রক্ষা করতে পারছে না। ভূমিদস্যুরা রেল লাইন ঘেঁষেই নির্মাণ করেছে অবৈধ দোকানপাট ও বস্তিঘর। অথচ, রেল লাইনের উভয়দিকে ১০ ফুটের মধ্যে কোন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ হলেও বন্ধ নেই দখল। ২০১৭ সালের পর থেকে আর কোন অভিযান নেই।

অভিযোগ রয়েছে, বেশিরভাগ রেল লাইনকে কেন্দ্র করে অবৈধভাবে গড়ে উঠা কাঁচাবাজার, গুদাম ঘর, বিভিন্ন রাজনৈতিক সাইন বোর্ড সর্বস্ব সংগঠনের দফতর ও দোকানঘর গড়ে উঠছে প্রতিনিয়ত। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নেমেছে পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের দুটি এস্টেট বিভাগ। ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের বারৈয়ারহাট এলাকায় ধুমঘাট ও চিনকী আস্তানা স্টেশন এলাকায় দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দিলেও আবারো গড়ে উঠেছে। তখন পাহাড়তলীস্থ ডিভিশনাল এস্টেট অফিসার ও রেলওয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত রেজার নেতৃত্বে একটি টিম ৫ ঘন্টাব্যাপী এ অভিযানে রেলের প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার করেছিল।

আরো অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল এসব স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া বাণিজ্য চালিয়ে আসছিল। আবার রেলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অবৈধ স্থাপনা নিজ দায়িত্বে উচ্ছেদের নোটিস দেয়া হলেও প্রকৌশল বিভাগকে ম্যানেজ করেই প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারী সম্পত্তি দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অবৈধ দখলে রেখেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক আমলে মন্ত্রী ও এমপির দোহাই দিয়ে এসব জায়গা দখলে রেখেছির বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে প্রত্যক্ষভাবে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম পুরাতন রেল স্টেশন, কদমতলী, ষোলশহর স্টেশন, জানালীহাট স্টেশন, সল্টগোলা রেল ক্রসিং, ঝাউতলা রেল গেইট, আমবাগান রেল গেইট, ফৌজদারহাট লেবেল ক্রসিং, পাহাড়তলী সিডিএ মার্কেট রেলগেট, কৈবল্যধাম লেবেল ক্রসিংসহ নগরীসহ প্রায় ১৬টি রেল স্টেশন এলাকায় এ ধরনের অবৈধ স্থাপনা ও বাজার রয়েছে। অবৈধ দখলদার চক্রের অপচেষ্টার কারনে এ উচ্ছেদ অভিযান বছরের পর বছর বিলম্বিত হয়। একশ্রেণীর ভাসমান ব্যবসায়ীকে কেন্দ্র করে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় গড়ে তুলেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বাণিজ্যের অন্যতম আখড়া।

এর আগে ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের জানালীহাট স্টেশন এলাকায় রেল লাইনকে ঘিরে গড়ে উঠা প্রায় আ্ড়ইশ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয় গত বৃহস্পতিবার। অভিযানে প্রায় ৮০ কোটি টাকা মূল্যের দেড় একর জায়গা উদ্ধার করেছে। কিন্তু প্রকৌশল বিভাগ কোন উদ্যোগ না নেয়ায় আবারো বেদখল হয়ে গেছে এই মূল্যবান ভূমি।

তবে যেকোন সময় উচ্ছেদের আগে অবৈধ দখলদারদের লিখিত, মৌখিক এমনকি মাইকিং করেও তাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু তারা সরকারী দফতরের আদেশ না মানায় অভিযান পরিচালনায় বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। রেল লাইনের উভয় দিকে গুরুত্বের উপর ভিত্তি করে স্থাপনা তৈরি করা ঝুকিপূর্ণ। কিন্তু ঐ এলাকায় অনেকটা রেল লাইন ঘেঁষেই তৈরি করা হয়েছে অবৈধ স্থাপনা। ফলে উচ্ছেদে বুলডোজারেরও অনেক সময় লাগে।

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

ট্যাগ :

close