গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নিবন্ধিত। রেজি নং-০৯২

রেজিঃ নং-০৯২

ডিসেম্বর ১, ২০২২ ৩:৩৮ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের আকাশ রাঙা হল ফানুসের আলোয়

বাংলাধারা প্রতিবেদক »

প্রবারণা পূর্ণিমা আজ। বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় প্রধান ধর্মীয় উৎসব এটি। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে পালিত হচ্ছে প্রবারণা পূর্ণিমা। এ উপলক্ষে সন্ধ্যায় নগরের নন্দনকাননের বৌদ্ধ মন্দিরে ফানুস ওড়ানো হয়। এর আলোয় রাঙা হয়ে ওঠে সেখানকার আকাশ।

রোববার ( ৯ অক্টোবর) সকাল থেকেই দিনভর পূজা, পঞ্চশীল, অষ্টশীল, ভিক্ষুসংঘের পিণ্ডদানসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মুখর ছিল চট্টগ্রামের বৌদ্ধ মন্দিরগুলো।

জানা যায়, সংস্কৃত ‘পবারণা’ শব্দ থেকে প্রবারণা শব্দের আবির্ভাব। যার অর্থ হলো ‘আশার তৃপ্তি’ ‘অভিলাষ পূরণ’ শিক্ষা সমাপ্তি অথবা ধ্যান শিক্ষা সমাপ্ত। প্রবারণা বরণ অর্থে যা কিছু সুন্দর, সৎ, যথার্থ, বিজ্ঞজন সর্বোপরি বুদ্ধমোদিত সে রকম কাজকে বরণ করা এবং এগুলো নিজের জীবনে মেনে চলা। বৌদ্ধধর্মে বিশ্বাসীরা এগুলো মেনে চলার চেষ্টা করেন।

প্রবারণা পূর্ণিমা ঘিরে চট্টগ্রামের মন্দিরগুলোর চারপাশে বসেছে বিভিন্ন সামগ্রীর মেলা। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

নগরের কাতালগঞ্জের নবপণ্ডিত বিহার, পাথরঘাটা জেতবন শান্তিকুঞ্জ বিহার, ইপিজেড সার্বজনীন বৌদ্ধবিহার ও মৈত্রী বনবিহার, চান্দগাঁও সার্বজনীন বৌদ্ধবিহার, মোগলটুলী শাক্যমুণি বৌদ্ধবিহার, বন্দর বৌদ্ধবিহারসহ প্রায় প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে সকাল থেকেই নানা আয়োজন করা হয়।

 

সম্মিলিত প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক মিথুন রশ্মি বড়ুয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করছি। প্রবরণা পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষে ফানুস উড়িয়েছি। ২০১৭ সাল থেকে আমরা ফানুস উড়িয়ে আসছি।

যে কারণে ফানুস উড়ানো হয়

কথিত আছে যে, এই চুল তিনি কেটে আকাশে উড়িয়ে দেন। উড়ে যাওয়া সেই চুল আর মাটি স্পর্শ করেনি। আরো বিশ্বাস করা হয়ে থাকে এই চুল স্বর্গে চলে যায়। আর তা স্বর্গে চুলামনি চৈতে সংরক্ষিত আছে।

সেই পবিত্র চুল স্বর্গ মর্ত সবখানে পূজনীয়। আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে প্রবারণা পূর্ণিমা পর্যন্ত এই চুল প্রদীপ জেলে স্বর্গে সম্মান জানানো হয়। কিন্তু মর্ত থেকে তাকে কি উপায়ে প্রদীপ দেয়া যাবে? বৌদ্ধ ধর্মাবলীম্বগণ প্রবারণা পূর্ণিমা তিথিতে সেই শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে এই আকাশ প্রদীপ তথা ফানুস বাতি নিবেদন করেন। এ কারণে বৌদ্ধ ধর্মে ফানুস একটি পবিত্র পর্ব। ফানুস উড়িয়ে সমস্বরে সাধু সাধু রবে তারা বৌদ্ধকে প্রণাম জানান।

যে স্মৃতি থেকে ফানুস উড়ানো হয় সে হিসেবে আষাঢ়ী পূর্ণিমার দিনে ফানুস উড়ানোর কথা। কিন্তু আষাঢ়ী পূর্ণিমাতে বৃষ্টি ও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় ফানুস উড়ানোর জন্য আবহাওয়া অনুকূলে থাকে না। এ কারণে প্রবারণা বা আশ্বিনী পূর্ণিমার দিনে ফানুস উড়ানো হয়।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on telegram
Telegram
Share on skype
Skype
Share on email
Email

আরও পড়ুন

অফিশিয়াল ফেসবুক

অফিশিয়াল ইউটিউব

YouTube player