logo
সুফিয়া শীলা’র তিন কবিতা
#

অনির্বাণ

হৃৎপিণ্ডে আগ্নেয়গিরির আস্ফালন চলছে বেড়ে,
থেকে থেকে চারপাশের মাটি কাঁপছে;
ভেতর থেকে তর্জন-গর্জন আর
হুঙ্কারে লণ্ডভণ্ড হচ্ছে পৃথিবীর অভ্যন্তর,
কেঁপে কেঁপে জানান দিচ্ছে অস্তিত্ব তার।

তীক্ষ্ণ আলোর স্ফুরণ করছে তাণ্ডব,
জ্বলন্ত ম্যাগমা পথ পেয়ে করছে উল্লাস;
নেমে আসছে লাভার অগ্নিদগ্ধ দেহ,
আকণ্ঠ পিপাসায় কাতর নিগূঢ় নিশ্বাস;
বিবর্ণ প্রতিমূর্তির বিদগ্ধ ছায়া ঘিরে আছে মহাকাল।

পরিশুদ্ধ অভিলাসের উল্লাসে চলে অব্যর্থ আক্রমণ,
চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে চায়—
সকল বেরিকেড আর বাঁধার দেয়াল;
দম্ভোক্তির অনুশাসন পড়ে থাকে পিছন-পথে,
ভালোবাসার সাঁজোয়া শাণিত বহর ছুটে যায়
সভ্যতার সকল যুদ্ধক্ষেত্রে।

 

আলোর উত্তরাধিকার

নিঃশব্দে নীরবে নিঃশ্বাসে নামবে নিস্তব্ধতা,
ভেঙে দেবে বহমান অস্তিত্বের দেয়াল;
খসে পড়বে চিরচেনা মুখোশের মসৃণ পলেস্তারা,
এক মুঠো রোদ নেমে আসবে পৃথিবীর দেহে।

অন্তঃকরণ শুদ্ধতায় অস্তিত্বের লড়াই বড়ই
অস্থির আর নৃশংস,
ভেতরের অন্ধকার সত্তাকে যদি দিতে পারো নির্বাসন,
যদি পরাজিত করতে পারো জাগতিক মোহ,
বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারো যদি আত্মকে,
তো, নিশ্চিত জেনো—
সেই এক মুঠো রোদ হবে তোমার।

সময়ের মুমূর্ষু মায়া থাকবে লাইফ সাপোর্টে,
অমুদ্রিত অক্ষরগুলো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘোষণা দেবে
ছুটে চলা রক্তস্রোতে;
আত্মপ্রকাশের অপেক্ষায় উদগ্রীব হবে মহাকাল,
সত্যিই সেদিন—
অদৃশ্য আহ্বানে এক টুকরো আলো ছুটে যাবে
অচেনা উর্ধ্বলোকে।

 

প্রবহমান স্রোত

অভিমানী দোয়েলের চোখে অগ্নিশিখা নিভেনি আজও,
আকাশের প্রহরীরা নির্ঘুম নক্ষত্রের রেশমী আলোয়
জেগে আছে এখনও ;
বিষাক্ত নীল ক্যাকটাস পরম মমতায় বিছিয়ে দিয়েছে
তার অরক্ষিত চুম্বন,
মাটির শরীরে ক্ষতচিহ্নগুলো ধীরে ধীরে হয়ে যায়
রক্তাক্ত আকর।

প্রতিদিন চলে সেই যুদ্ধের অন্তহীন মহড়া,
বিচ্ছিন্ন দেহ নিয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করে স্বপ্নের সব
কালো অক্ষর;
কষ্টের বিষণ্ণ বুদবুদ এখন স্রোতস্বী নদী,
প্রতিক্ষণ ভাঙে পাড়, চর জাগে অকারণে আবার;
বহমান জঙ্গমতায় দিশাহারা দেহের খুঁড়িয়ে চলা ফুসফুস।

নিরাশার নেশায় হয় না আশার চাষাবাদ,
পিছুটানের অব্যক্ত অভিন্নতার প্রেম হয় স্থবির হিমালয়;
নিরাবরণ মনের চিলেকোঠায় পৌঁছায় না
বিদীর্ণ হাহাকার,
ক্লান্ত-অবসন্ন হৃৎপিণ্ডের আবাদি জমির নিথর শরীর;
অহর্নিশ দাবাগ্নিতে পুড়তে থাকে জীবন-পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশ।