logo
শীতবস্ত্রের বিকিকিনি জমেনি মার্কেটে, ফুটপাতের দোকানই গরীবের ভরসা
#

বাংলাধারা প্রতিবেদক »

সন্ধ্যা নামতেই কমে যাচ্ছে তাপমাত্রা। ফলে, বেশ কয়েকদিন ধরেই টের পাওয়া যাচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। ভোর হতেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাওয়া এক অনন্য সুন্দর নগরীর দেখা মিলছে এখন। হাড় কাঁপানো শীত না পরলেও এই আবহাওয়াকে স্বাগত জানাতে গরম কাপড় কিনছেন লোকজন। বেচা-কেনা তেমন জমে না উঠলেও ফুটপাত ও বড় বড় শপিংমলগুলোতে শীতবস্ত্রের পসরা সাজিয়ে বসছেন দোকানিরা। নগরের নিউ মার্কেট, আন্দরকিল্লা, বহদ্দারহাট, ২ নম্বর গেইট, আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন এলাকার বড় বড় শপিং মল, মার্কেট ও ফুটপাত ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীতের প্রকোপ তেমন না পরলেও দাম গরম কাপড়ের দাম বেশি হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতারা। দিন যত যাচ্ছে দাম ততই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। শীতের পোশাক কিনতে বিত্তবানরা বড় বড় শপিং মল ও মার্কেটের দিকে ছুটলেও ক্রয়ের সামর্থ্য না থাকায় নিম্নবিত্তরা দ্বারস্থ হচ্ছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে।

শীত জেঁকে না বসলেও বর্তমানে ফুটপাত ও মার্কেটগুলোতে সোয়েটার, জ্যাকেট, ব্লেজার, ওয়েস্ট কোট, শাল, টুপি, মাফলার, ডেনিম শার্টসহ নানা ধরণের শীতবস্ত্রের দাম এখন অনেক বেশি।—এমনটাই জানিয়েছেন ক্রেতারা।

নিউ মার্কেটের বিপনী বিতানের বিভিন্ন দোকান ঘুরে কথা হয় কয়েকজন বিক্রেতার সঙ্গে। তানভির নামে এক বিক্রেতা বলেন, ‘ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পোশাক এনেছি এবার। ক্রেতারা এসে পছন্দ করে দামদর করেই চলে যাচ্ছেন। ক্রয়ের প্রবণতা খুবই কম। এখনও জমে ওঠেনি বেচাকেনা। আশা রাখি, শীত বাড়লেই বেচাকেনা জমে উঠবে।’

দামের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সবকিছুর দামই কিন্তু বেশি। আর শীতের পোশাক বিক্রি হয় সারাবছরে একবারই। তাই আমরা স্বাভাবিকভাবেই একটু বেশি লাভের আশা করি। তবে ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই আমরা সব ধরণের শীতবস্ত্র বিক্রি করছি।’

তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে জহুর হকার মার্কেট এবং ফুটপাতের দোকানগুলো ঘুরে। শীতের প্রকোপ না পরলেও এ মার্কেটের দোকানগুলোতে ভিড় দেখা গেছে ক্রেতাদের, চলছে হরদম বেচাকেনাও। অপেক্ষাকৃত কম দামে পোশাক পাওয়া যাচ্ছে বিধায় নিম্নবিত্ত লোকজন ভিড় জমাচ্ছেন এসব দোকানে।

আবদুল্লাহ নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এবার এখনও শীত তেমন পড়েনি। তবুও বেচাকেনা মোটামুটি ভালই হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষরাই মূলত আমাদের কাছ থেকে কেনে। হয়তো শীত বেশি পড়লে আমাদের বেচাকেনা আরও বাড়বে।’

বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতি পিস কম্বলের দাম পড়ছে ৪’শ টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। জ্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৪’শ থেকে ২ হাজারের মধ্যে। উলের সোয়েটার পাওয়া যাচ্ছে ৪’শ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যেই।

এদিকে, ফুটপাতে কম্বল পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে হাজার টাকার মধ্যেই।  আর জ্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে ২৫০ থেকে ১২’শ হাজারের মধ্যে। এছাড়া, কার্ডিগান ২০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং কানটুপি দাম ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

নগরীর ২ নম্বর গেইটের চিটাগং শপিং কমপ্লেক্সের দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহিলাদের হুডি তারা বিক্রি করছেন ৫’শ থেকে শুরু করে ১৫’শ টাকার মধ্যে। চাইনিজ শাল ও চাদর বিক্রি করছেন ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকায়।

নিউমার্কেটে চাইনিজ ব্লেজার ১ হাজার ৫’শ থেকে ৫ হাজার টাকা, চামড়ার জ্যাকেট ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

রেলষ্টেশন রোডের ফুটপাত থেকে শীতের কাপড় কিনছিলেন ভ্যান চালক ওমর ফারুক। তিনি বলেন, ‘সারাদিনে বেশি ইনকাম হয়নি। তাই মার্কেটে গিয়ে কাপড় কেনার সাধ থাকলেও সাধ্য নেই। ঘরে দুই ছেলে আছে। ওদের জন্যে আর ওদের মায়ের জন্য গরম কাপড় কিনতে তাই ফুটপাতই ভরসা। এখানে অল্প টাকার মধ্যে পেয়ে যাব ভেবেই আসা।’

হকার মুসলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা মূলত বিভিন্ন গার্মেন্টসের রিজেক্ট হওয়া পণ্যগুলো লট হিসেবে কিনি। এর মধ্যে থেকে মোটামুটি ভাল পণ্য গুলো বাছাই করে কম দামের মধ্যে ফুটপাতে বসে বিক্রি করি। নিম্ন আয়ের মানুষরাই আমাদের মেইন কাস্টমার। অল্প দামে পছন্দের পোশাক পেয়ে তাদের আনন্দেরও সীমা থাকেনা।’

বাংলাধারা/আরএইচআর