গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নিবন্ধিত। রেজি নং-০৯২

রেজিঃ নং-০৯২

ডিসেম্বর ১, ২০২২ ৪:৪৯ অপরাহ্ণ

সোনালী ধানের ঝিলিক ছড়িয়ে পড়েছে গুমাইবিলে

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি »

কুয়াশা ভেদ করে যখন সূর্যের আলো প্রকৃতিতে আসে, তখন ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে শুরু করে দিগন্তবিস্তৃত আমনের খেত। সোনামাখা রোদে মাঠে মাঠে ঝলমলিয়ে ওঠে সোনালি ধান। সেই ধানের ঝিলিক যেন ছড়িয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ‘গুমাইবিলের’ কৃষকদের চোখেমুখে।

প্রকৃতিতে এখন হেমন্তকাল। হেমন্ত মানেই মাঠে মাঠে সোনালি ধানের হাসি আর নবান্নের উৎসব। আমন ধান ঘরে এলেই গ্রামবাংলার কৃষকদের চিরায়ত এক উৎসবের নাম নবান্ন। এদিকে অগ্রহায়ণ মাসে ঘরে প্রথম ধান তোলার পর নতুন চাল দিয়ে উৎসবটি পালন করেন কৃষকরা।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর বিল চট্টগ্রামের শস্যভাণ্ডার খ্যাত রাঙ্গুনিয়ার গুমাইবিল। গুমাইবিলের পাশাপাশি উপজেলার অন্যান্য কৃষি জমিতেও চলছে ধানকাটার মহোৎসব। তবে ভাল দাম নিশ্চিতে বাজার মনিটরিংয়ের আহ্বান জানিয়েছেন কৃষকেরা।

সরেজমিনে গুমাইবিলে গিয়ে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক পথে মরিয়মনগর চৌমুহনী পেরুতেই দেখা মিলবে দৃষ্টি জোড়ানো গুমাইবিলের সারি সারি কৃষি জমি। সেখানে সোনালী ধানে ভরে গেছে কৃষি মাঠ। হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে প্রতিটি ধানের গোছা। তোতা পাখিসহ নানা জাতের পাখিরা ঝাঁক বেধে উড়ে বেড়াচ্ছে মাঠে। কৃষকদের কেউ ধান কেটে ঘরে আনছেন, কেউবা আবার কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সড়ক পথে যাওয়ার পথে অনেকেই গাড়ি থেকে নেমে অপরুপ সৌন্দর্যের সাক্ষী হতে ছবি তুলে স্মৃতিবন্ধী করে রাখছেন। কেউবা গাছের ছায়ায় বসে গুমাইবিলে ধানের মনমাতানো হিমেল বাতাসের ঢেউ উপভোগ করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার রাঙ্গুনিয়ায় আমন আবাদ হয়েছে ১৫ হাজার ৩২০ হেক্টর। এ বছর উপজেলায় আগাম জাতের পাশাপাশি স্থানীয় জাতের আমন ধানের ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। আমনের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছে উপজেলা কৃষি অফিস।

গুমাইবিলে কর্মরত উপসহকারী কৃষি অফিসার উত্তম কুমার বলেন, গত রবিবার আমন ধান বীজ উৎপাদন প্রদর্শনী প্লটের নমুমা শস্য কর্তন করা হয়েছে। ব্রিধান ৫১ জাতের নমুনা শস্য কর্তনে দেখা যায় ২০ বর্গ মিটারে ১৬.২৮০ কেজি (কাঁচা) ফলন হয়েছে। যেখানে উপস্থিত আর্দ্রতা ১৬.৭%। ১২% আর্দ্রতায় ফলন হেক্টর প্রতি ৭.৭০ মে.টন এবং ১৪% আর্দ্রতায় ফলন ৭.৮৮ মে.টন। চাউলে ৫.২২ মে. টন। যেখানে গবেষণাগারে বলা হয়েছে ফলন ৪.৫ – ৫ মে. টন হবে, সেখানে আমরা ফলন পেয়েছি ৭.৮৮ মে.টন। অন্যদিকে এ্যারাইজ এজেড- ৭০০৬ হাইব্রিড জাতের ধান কাটার পর হেক্টর প্রতি ৮.৭ মেট্টিক টন ফলন পাওয়া গেছে।

গুমাইবিলের কৃষক জসিম উদ্দিন জানান, তিনি এবার ৭ হেক্টর জমিতে আমনের চাষাবাদ করেছেন। ইতিমধ্যেই তিনি ধান কাটা শুরু করেছেন। এতে গড়ে ৬ টন করে ফলন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

কৃষক রেজাউল করিম বলেন, এখন খোলা বাজারে হাইব্রিড জাতের শুকনো ধানের মূল্য কেজি ২৭ টাকা এবং সাদা পাঞ্জা ৩০ টাকা। এই দাম পেলে আমরা লাভবান হবো। তাই কোন সিন্ডিকেট যেন ধানের দাম কমিয়ে দিতে না পারে, সেজন্য বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে।

কৃষক সুলতান মাহমুদ বলেন, এ বছর জমিতে চারা রোপণের পরও বৃষ্টির দেখা মিলেনি। এতে ফলন নিয়ে আশঙ্কায় ছিলাম। তবে চারা রোপণের মাঝামাঝি সময়ে বৃষ্টির দেখা মেলে। পরে সময় অনুযায়ী বৃষ্টি পাওয়ায় আমন চাষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আমাদের জমিতে ধানের ভাল ফলন হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার জানান, রাঙ্গুনিয়ায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫% ধান কাটা হয়ে গেছে। এই সপ্তাহে সপ্তাহের দিকে পুরোদমে কাটা শুরু হবে। যা কাটা হয়েছে তাতে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আশাকরি এবারো ধানের উৎপাদন বরাবরের ন্যায় রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on telegram
Telegram
Share on skype
Skype
Share on email
Email

আরও পড়ুন

অফিশিয়াল ফেসবুক

অফিশিয়াল ইউটিউব

YouTube player