logo
সোনালী ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত বোয়ালখালীর কৃষকরা
#

দেবাশীষ বড়ুয়া রাজু, বোয়ালখালী »

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সোনালী ধানের সমারোহ। হেমন্তের বাতাসে আমন ধানের সোনালী ঢেউ কৃষকদের মন ভরিয়ে দিচ্ছে। বাতাসে ঢেউয়ের মতো দোল খাচ্ছে সোনালী ধান। আর এমন ঢেউয়ে দুলে উঠছে প্রকৃতি। এতে বুক ভরা স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।

পাকা আমন ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ততা বেড়েছে কৃষকদের। আগাম জাতের রোপা আমন ধানের ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকেরা খুশি। ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা। ধান তোলার পর তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন রবিশস্যের। উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, আগাম জাতের ধান চাষে কৃষকেরা লাভবান হবেন। ধান ঘরে ওঠার পর সরিষা, ভুট্টা, গম ও শীতকালীন সবজি আবাদে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবার বোয়লখালীতে আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮৫০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমিতে। হাইব্রিড ও উফশী জাতের রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩৫০ হেক্টর কাটা হয়েছে। হাইব্রিড জাতের ব্রিধান ৮৭,৪৯,৫২ ও পায়জাম ১০৮ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে আর উফশী জাতের রোপা আমন ১১৫ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে ঘরে তুলতে পারেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আতিক উল্লাহ।

তিনি বলেন, রোপনের সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় উপজেলার আমুচিয়া, করলডেঙ্গা, খরণদ্বীপ ও জৈষ্ঠ্যপুরা এলাকায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। তবে যেগুলো চাষ হয়েছে সেগুলো অনুকূল আবহাওয়া, কৃষকের নিবিড় পরিচর্যা, যথা সময়ে জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগের কারণে এবার আমন চাষের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ। ফলে মাঠে দোল খাওয়া সোনলী ধানে নতুন স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা।

কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আগাম জাতের ধানের ফলন ভাল হয়েছে। তিন ফসলি এসব জমির আগাম জাতের ধান কাটা শেষে এই অঞ্চলের কৃষকেরা কলাই, সরিষা, ভুট্টা, আলু শস্যে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন বলেও জানান কৃষকেরা।

উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের জৈষ্ঠ্যপুরা গ্রামের কৃষক নিমাই দে করলডেঙ্গার রিটন বড়ুয়া বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার ধানের খেতে তেমন একটা কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়নি। ফলনও ভালো হয়েছে। আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে ধান কাটা-মাড়াই শেষ হবে। এর পর তাঁরা রবিশস্য উৎপাদনে প্রস্তুতি নেবেন।